অবৈধ নির্মাণ ভাঙা দেখতে কসবায় অগ্নিমিত্রা, জাভেদ খানের বাড়িতে পুর-নোটিস, অভিষেকের চিঠি নিয়ে ভাবা হচ্ছে: পুর কমিশনার
বর্তমান | ২৫ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার বেআইনি নির্মাণ নিয়ে নোটিস গেল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কসবার বিধায়ক জাভেদ খানের বাড়িতে। সেটি তাঁর পৈতৃক ভিটে। রবিবার দিনভর শহরজুড়ে অবৈধ নির্মাণের ‘অসুখ’ সারাতে ‘বুলডোজার ডোজ’ চলেছে পুরোদমে! এদিন তিলজলা, কসবা, বেলেঘাটা মিলিয়ে ছ’টি বেআইনি নির্মাণ ভাঙা শুরু করে পুর-প্রশাসন। কসবায় সেই কাজই দেখতে গিয়েছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এদিকে, রবিবার কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে জানিয়েছেন, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠি নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবারের ১৭টি ঠিকানায় বেআইনি নির্মাণ নিয়ে নোটিস দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। সাতদিনের মধ্যে সমস্ত নথি জমা দিতে বলা হয়েছিল। রবিবার ধরলে সেই সাতদিনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামী মঙ্গলবার। তার মধ্যেই শুক্রবার তৃণমূল সাংসদের তরফে পুরসভাকে চিঠি দেওয়া হয়। সেখানে ‘আরও সময়’ চেয়েছেন অভিষেক। যার প্রেক্ষিতে এদিন পুর-কমিশনার জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দু’সপ্তাহ সময় চেয়েছেন। তবে এখনও এনিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি ভেবে দেখা হচ্ছে।
তপসিয়া এলাকায় বহু অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। সেরকমই এক বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে বিধায়ক জাভেদ খানের পৈতৃক ভিটেতে নোটিস সাঁটাল পুরসভা। তাঁকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তাঁকে জানাতে হবে, নির্মাণের বেআইনি অংশ কেন ভাঙবে না পুরসভা। সমস্ত নথিপত্র সহ পুরসভাকে জবাব না দিলে ওই নির্মাণ ভেঙে ফেলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে নোটিসে। উল্লেখ্য, এই বাড়ির ঠিকানায় এখনও প্রাক্তন মন্ত্রীর বাবার নাম রয়েছে। জাভেদ খানের পরিবারের সদস্যরা এই ঠিকানারই ভোটার। এদিন পুরমন্ত্রী জাভেদ খানের পুত্র ফৈয়াজ আহমেদ খানের নাম করেও অভিযোগ করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে ফৈয়াজ বলেন, ‘ওঁকে কে কী তথ্য দিয়েছে, বলতে পারব না। আমি কোনো বেআইনি নির্মাণের মধ্যে নেই। সঠিক তদন্ত হোক। আইন আইনের পথে চলবে।’ তাঁর বাসস্থানে পুরসভার নোটিস প্রসঙ্গে ফৈয়াজ বলেন, ‘ওটা ১০০ বছরেরও বেশি পুরানো বাড়ি। ওখানে আমার বাবার জন্মেছেন। কীসের বেআইনি নির্মাণ, বলতে পারব না। মন্ত্রী অনেক কিছু বলেছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পূরণ করতেই ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’