• বেআইনি নির্মাণ! বুলডোজার সংস্কৃতির ‘উৎসব’ শুরু রাজ্যে
    বর্তমান | ২৫ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহর থেকে জেলা, পালাবদল পরবর্তী রবিবার এককথায় ‘হ্যাপেনিং’! সৌজন্যে, বুলডোজার সংস্কৃতি। ডবল ইঞ্জিনের আমদানি। বছরের পর বছর মাথা উঁচু করে রাখা ‘বেআইনি নির্মাণ’ মুহূর্তে ধুলিসাৎ। দখলদার-মুক্ত। গত দু’সপ্তাহে রেলের জমি দখলমুক্ত করা, কিংবা হকার সরানোয় ইতিউতি ব্যবহার হলেও রবিবার বাংলা দেখল কার্যত বুলডোজার উৎসব। কলকাতায় অভিযুক্ত দুষ্কৃতী থেকে প্রাক্তন হেভিওয়েট মন্ত্রী-বিধায়ক, বাদ গেলেন না কেউই। অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে কসবার বিধায়ক জাভেদ আহমেদ খানের পৈতৃক ভিটেতেও নোটিস দিল পুরসভা। তাঁকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে হবে। এক ঘণ্টার নোটিসে বুলডোজার চলল পুরুলিয়াতেও। পুরুলিয়া কোর্ট চত্বরের সামনে কয়েক দশকের দখলদারদের সরিয়ে দিল প্রশাসন। গুঁড়িয়ে দেওয়া হল দোকানঘর। আবার বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে খানাকুলেও চলল বুলডোজার। বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ দাঁড়িয়ে থেকে ভাঙালেন নন্দনপুরের অবৈধ নির্মাণ। বিধায়ক সাফ জানিয়েছেন, ‘নতুন করে কোনো অবৈধ নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না।’

    কসবা, বেলেঘাটা, তিলজলা—রবিবার কলকাতার একাধিক এলাকায় অনেকগুলি অবৈধ নির্মাণে ‘কোপ’ পড়েছে। কসবায় সোনা পাপ্পুর তৈরি অবৈধ নির্মাণ, বেলেঘাটায় ‘কুখ্যাত’ রাজু নস্করের বেআইনি প্রোমোটিং কিংবা তিলজলা জি জে খান রোডে অবৈধভাবে তৈরি বহুতল ভাঙা হয়েছে সকাল থেকেই। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, তিলজলার এই অবৈধ প্রোমোটিং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কসবার বর্তমান বিধায়ক জাভেদ খানের পুত্র ফৈয়াজ আহমেদ খানের। যদিও, ৪৭ নম্বর (আংশিক), জি জে খান রোডের ঠিকানায় সরকারিভাবে রয়েছে অন্য নাম—‘অনন্ত সিং, গুল মহম্মদ অ্যান্ড আদার্স’। এদিন সব মিলিয়ে শহরে ছ’টি বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হয়েছে। প্রচুর শ্রমিক, ছেনি-হাতুড়ি, গ্যাস কাটার তো ছিলই। কিন্তু নজর কেড়েছে বুলডোজার। একধাক্কায় গুঁড়িয়ে গিয়েছে কংক্রিটের দেওয়াল। এদিন কসবা অঞ্চলে সোনা পাপ্পুর বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ দেখতে যান রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সঙ্গে ছিলেন কলকাতা পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে। অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘বেআইনি নির্মাণ ধরে ধরে চিহ্নিত করা হচ্ছে। একটা একটা করে ভাঙা হচ্ছে। রবিবার ছ’টা অবৈধ নির্মাণ ভাঙা হয়েছে। তার মধ্যে কুখ্যাত দুষ্কৃতী রাজু নস্কর, সোনা পাপ্পুর তৈরি বাড়ি রয়েছে। অনেক জায়গায় সামনে তাদের নাম নেই। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা হয়েছে, এগুলি তারাই তৈরি করেছে। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ খানের পুত্রেরও নামও এই তালিকায় রয়েছে। তাঁর দু’টি অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করে ভাঙা হয়েছে।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘নোটিস পাঠানো হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময়ও দেওয়া হচ্ছে। তবে অবৈধ প্রমাণিত হলে ভেঙে ফেলা হবেই। আগের সরকার এইসব অবৈধ নির্মাণকে প্রশ্রয় দিয়েছে। প্রোমোটার থেকে ডেভেলপার—সকলেই শাস্তি পাবেন। যাঁরা ঘুষ কিংবা অন্যান্য নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এই সমস্ত বেআইনি নির্মাণ হতে দিয়েছেন, তাঁরাও ছাড় পাবেন না।’                      বেআইনি নির্মাণ ভাঙা চলছে বেলেঘাটায়। -নিজস্ব চিত্র 
  • Link to this news (বর্তমান)