• শহরে বেআইনি নির্মাণে মদত? ওসিদের তালিকা বানাচ্ছে ইডি
    বর্তমান | ২৫ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাম জমানার শেষ লগ্নে ও তৃণমূল জমানার পুরো অংশেই কলকাতায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল বেআইনি নির্মাণ। স্থানীয় থানা ও কাউন্সিলাররা কার্যত সিন্ডিকেট গড়ে এই কারবার চালিয়েছে। জমি দখলের মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ-কাউন্সিলার-প্রোমোটারদের আঁতাতের তথ্য পেয়েছে ইডি। জমি দখল থেকে বেআইনি নির্মাণ— কলকাতা শহরের বিভিন্ন ডিভিশনের যে সব থানার ওসিরা এই কাজে মদত দিয়েছেন এবং বিনিময়ে মোটা টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ, তাঁদের তালিকা তৈরি করছে ইডি। ঘটনাচক্রে এই ওসিদের সিংহভাগই ডিসি পদমর্যাদার প্রাক্তন অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের স্নেহধন্য বলে পরিচিত ছিলেন।

    জোর করে জমি দখলের মামলার তদন্তে নেমে এজেন্সি জানতে পেরেছে, কলকাতায় জমি দখল থেকে শুরু করে অবৈধ নির্মাণ, সবের নেপথ্যেই ছিলেন বিভিন্ন থানার ওসিরা। আর তার পিছনে পূর্ণ মদত ছিল তৃণমূলের। ইডির তদন্তে উঠে এসেছে, কাউন্সিলারের সঙ্গে প্রোমোটাররা যোগাযোগ করার পর সংশ্লিষ্ট জমি যাতে তাঁরা কব্জা করতে পারেন, সেজন্য থানার ওসির কাছে ফোন যেত কাউন্সিলারদের। আবার প্রোমোটার যাতে বিপদে না পড়েন, সেকারণে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসও তাঁর স্নেহধন্য ওসিদের ফোন করে বলে দিতেন। এরপর ওসি সংশ্লিষ্ট প্রোমোটারের সঙ্গে বৈঠকের পর জমি দখলের কাজে নেমে পড়তেন। এভাবেই বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু, জয় কামদারদের মতো ডেভেলপারদের বাড়বাড়ন্ত শুরু।

    জানা গিয়েছে, ওসিদের সঙ্গে বসে ডেভেলপাররাই ঠিক করে নিতেন, অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে আরও কত তল অতিরিক্ত তোলা যায়। সেই অনুযায়ী স্কোয়ার ফুট ধরে টাকার অঙ্ক নির্ধারিত হতো। শেক্সপিয়র সরণি বালিগঞ্জ, গড়িয়াহাট, কসবা, যাদবপুর, টালিগঞ্জ, বেলেঘাটা, জোড়াসাঁকো, বড়বাজার, হাতিবাগান, শ্যামপুকুর সহ ইএম বাইপাস লাগোয়া এলাকায় থানায় দক্ষিণার অঙ্ক ছিল বেশি। এই সব জায়গায় বেআইনি নির্মাণের জন্য প্রতি স্কোয়ার ফুট পিছু তিনশো থেকে সাড়ে তিনশো টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রথমে এই টাকা ওসিরা তাঁদের কোনো এজেন্টদের মাধ্যমে নিতেন। পরে তাঁদের পরিচিত কারও ই-ওয়ালেটে টাকা পাঠানো হতো বলে অভিযোগ।

    ইডির তদন্তে উঠে এসেছে, তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনকালে কার্যত  পুলিশের মদতেই শহরের একাধিক জায়গায় একের পর এক বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, এই সমস্ত থানার ওসিরা বেআইনি নির্মাণে মদত দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা কামিয়েছেন। শান্তনুবাবুর ঘনিষ্ঠ ওসিরা এখনও বিভিন্ন থানায় দায়িত্বে রয়েছেন। এককালীন টাকা ছাড়াও ওসিরা মাসিক টাকা পেতেন বলে জেনেছে ইডি। অনেকেই এই টাকা আবার সোনা পাপ্পুর মতো অপরাধীদের প্রোমোটিং ব্যবসায় খাটাচ্ছেন বলে এজেন্সির দাবি। কেউ আবার বেনামে সম্পত্তি করেছেন। সংশ্লিষ্টদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের আয়-ব্যয় এবং সম্পত্তির খোঁজ নেওয়া শুরু হয়েছে বলে খবর।
  • Link to this news (বর্তমান)