নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: চারদিকে কংক্রিটের আবাসন। মাঝখানে এক বিশাল জলাশয়। কিন্তু পাড়ের কাছে কে যাবে? এমন দুঃসাহস কার আছে? সবাই তো আর শরৎচন্দ্রের ইন্দ্রনাথ নন! ‘মৃত্যু ভয়’ আছে সবারই! কোনো গল্প নয়! স্মার্টসিটি নিউটাউনের ‘বি ডি’ ব্লকের জলাশয়ের এখন এমনই অবস্থা। বাসিন্দাদের কথায়, দীর্ঘদিন সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। তার ফলেই এই অবস্থা। এমনিতে নিউটাউনে সাপের উপদ্রব আছেই। দু’জনের মৃত্যুও হয়েছে এই শহরে সাপের কামড়ে। তাই ওই জলাশয়ের চারপাশে বাড়ছে বিষধর সাপের আতঙ্ক।
বি ডি ব্লকের স্ট্রিট নম্বর ১৬৫-এর পাশেই ৮ নম্বর গ্রিন ভার্জ। তার পিছনেই রয়েছে ওই জলাশয়। বি ডি ব্লকের অন্যদিক থেকেও ওই জলাশয়ে যাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, জলাশয়টি আগে পরিষ্কার ছিল। কিন্তু বছরখানেক ধরে আরও খারাপ অবস্থা। একবার শালবল্লা দিয়ে পাড়ের একাংশ বাঁধানো হয়েছিল। কিন্তু চারপাশ এখন আগাছার জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। কাছে যাওয়ার উপায় নেই। বাসিন্দাদের দাবি, নিউটাউনে চন্দ্রবোড়া, গোখরো, কেউটের উপদ্রব রয়েছে। চন্দ্রবোড়া জলা-জঙ্গলে বেশি থাকে। আর সেই ভয়ে জলাশয়ের পাড়ের পথ পারতপক্ষে কেউ মাড়ায় না। বর্ষার আগে সাপের ভয় আরও বাড়ছে। কারণ, ফি-বছর বর্ষার সময়েই নিউটাউনে চন্দ্রবোড়ার উৎপাত শুরু হয়। এক বছর আগে বর্ষায় চন্দ্রবোড়ার কামড়ে স্মার্টসিটিতে দু’জনের মৃত্যুও হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে বহু চন্দ্রবোড়া, কেউটে ও গোখরো। সাপের কামড় খেয়েছেন, এমন নিউটাউনবাসীর সংখ্যাও অনেক।
বি ডি ব্লকের এক বাসিন্দা বলেন, ‘আবাসনের মাঝখানে এত সুন্দর জলাশয়। একটু সংস্কার করলেই সাফ হয়ে যাবে। চারপাশের পাড় যদি যত্ন করে বাঁধানো হয়, বসবার জায়গা করা হয়, তাহলে আবাসিকরা ভ্রমণ করতে পারবেন। সকালে চারপাশে ঘুরে প্রাতর্ভ্রমণও করতে পারবেন। অথচ শুধুমাত্র উদ্যোগের অভাবে মজে যাচ্ছে এই জলাশয়। কিছুদিন পর বিল্ডিং গজিয়ে উঠলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।’ নিউটাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, বি ডি ব্লকের ওই জলাশয় সহ নিউটাউনের বেশকিছু জলাশয় সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। জলাশয়গুলি থেকে যাতে আর্থিক সংস্থান হয়, তার জন্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের দিয়ে মাছ চাষের একটি পরিকল্পনাও হয়েছিল। কিন্তু, বাস্তবায়িত হয়নি। সংস্কারের ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।