এই সময়, আলিপুরদুয়ার: সবেমাত্র দেশের বনমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, স্থায়ী ভাবে বাঘ ফেরানো হবে (টাইগার রিইন্ট্রোডাকশন) বক্সার জঙ্গলে। বহু বছর পরে আশার আলো দেখছে উত্তরবঙ্গের একমাত্র বাঘের জঙ্গল। কিন্তু সেই কাজের বাস্তবায়নে বাধা এখনও কম নয়।
আইনি লড়াই, আদালতের পর পর নির্দেশ, বন দপ্তরের লাগাতার অভিযান- এত কিছুর পরেও বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের কোর এলাকায় পর্যটন বন্ধ করা যায়নি! এতদিন অভিযোগ ছিল, ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের (এনজিটি) স্পষ্ট বারণ সত্ত্বেও জয়ন্তী থেকে বক্সা পাহাড়ের লেপচাখা পর্যন্ত অবাধে চলছে তথাকথিত হোমস্টে। সূত্রের খবর, বক্সার কোর এলাকায় বর্তমানে ২৩টি হোমস্টে চলছে। যার মধ্যে একটিও সরকারি ভাবে নথিভুক্ত নয়। সেখানে পর্যটকদের রাত্রিযাপন জারি রয়েছে। কোথাও কোথাও অনেক রাত পর্যন্ত চলছে হইহুল্লোড়। এ বার রাজ্যে ক্ষমতাবদল হতেই বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের কোর এলাকায় চলা এ সব অনিয়ম বন্ধ করতে ফের সরব হয়েছেন বনকর্তা, পরিবেশপ্রেমীরা। কারণ বক্সার গভীরে মানুষের আনাগোনা, গাড়ির শব্দ বন্যপ্রাণের স্বাভাবিক আচরণে প্রভাব ফেলছে। প্রকৃতিপ্রেমীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, আলিপুরদুয়ারের জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান, জলপাইগুড়ির গোরুমারা কিংবা কালিম্পংয়ের নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানে কোর এলাকায় পর্যটনের অনুমতি নেই। তা হলে শুধু বক্সার ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম কেন?
ন্যাফের মুখপাত্র অনিমেষ বসু বলেন, 'পর্যটন তো অনেক দূরের বিষয়, সংরক্ষিত অরণ্যের কোর এলাকায় মানুষের প্রবেশ নিষেধ। বক্সার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অবিলম্বে পরিবেশ আদালতের নির্দেশ কার্যকর হওয়া প্রয়োজন।' বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা কুমার বিমলের দাবি, 'কোর এলাকায় কোনও ভাবেই পর্যটকদের রাত্রিযাপন চলতে পারে না। এই বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটা স্থায়ী সিদ্ধান্তে আসা উচিত।' ২০১৬-তে প্রথমবার বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ভিতরে অবৈজ্ঞানিক এবং অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন নিয়ে এনজিটি-তে মামলা দায়ের হয়। আদালতের তরফে কড়া হাতে যাবতীয় নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরে ২০২০-তে জয়ন্তীতে বেআইনি পর্যটন ব্যবসার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে বন দপ্তর। বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় তিনটি হোমস্টে। অভিযোগ, পরে এ নিয়ে স্থানীয় রাজনীতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, আর একটিও অভিযানে যাওয়ার 'সাহস' দেখায়নি বন দপ্তর। ১৪ মাস আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলিপুরদুয়ারে এসে রাজ্যের অন্য সংরক্ষিত অরণ্যের মতো বক্সাতেও প্রবেশমূল্য মকুব করে দেন। অভিযোগ, তার পর থেকে অবাঞ্ছিতদের ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ।