• ‘বাঙালির একঘেয়েমি ভাঙবে এই ছবি!’ — কার জন্য প্রথমবার বড়পর্দার ছবি প্রযোজনার মাঠে ৭৩-এর অঞ্জন দত্ত
    আজকাল | ২৫ মে ২০২৬
  • দু’বছর আগে কিংবদন্তি মৃণাল সেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুক্তি পেয়েছিল ‘চালচিত্র এখন’। সেই ছবির হাত ধরেই প্রথমবার প্রযোজনার জুতোয় পা গলিয়েছিলেন টলিউডের বরেণ্য অভিনেতা, পরিচালক তথা গায়ক অঞ্জন দত্ত। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (KIFF) পুরস্কৃত হওয়া এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘হইচই’-এ প্রশংসা পাওয়ার পর প্রযোজক হিসেবে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গিয়েছে ওঁর। গত ৪৫ বছরে ২৫টি ছবিতে অভিনয় এবং প্রায় ২০টি ছবি পরিচালনা করার পর অঞ্জন দত্ত এখন খুব ভাল করেই বোঝেন ওঁর শক্তির জায়গা কোনটা এবং ওঁর পরীক্ষামূলক কাজের বাজেট ঠিক কত হওয়া উচিত। আর সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই এবার ছেলে নীল দত্তর প্রথম ছবির প্রযোজক হিসেবে পাশে দাঁড়ালেন ৭৩ বছর বয়সী এই ‘গেম চেঞ্জার’ পরিচালক।

    সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে নীল দত্ত পরিচালিত প্রথম ছবি ‘বিয়ে ফিয়ে নিয়ে’-র ট্রেলার। আর ছেলের তৈরি এই ছবির প্রথম ঝলক দেখেই গর্বে বুক ভরে উঠেছে তাঁর বাবার। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ এবং আবেগমথিত পোস্টে ছবির পেছনের গল্প ভাগ করে নিলেন অঞ্জন দত্ত।

    অঞ্জন দত্ত জানান, ‘চালচিত্র এখন’ ছবিটির জন্য তিনি ও নীল আন্তর্জাতিক কনসার্ট থেকে জমানো নিজেদের টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। সেই ছবির সাফল্যের পর যখন নীল ও তাঁর চার বন্ধু মিলে একটি নতুন চিত্রনাট্য লেখেন, প্রথম ড্রাফট শুনেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন অঞ্জনবাবু। নীল নিজেই এই ছবির ক্রিয়েটিভ ও এক্সিকিউটিভ প্রযোজক এবং সঙ্গীত পরিচালক।

    অঞ্জন দত্তের কথায়, “আমি ওদের পরামর্শ দিয়েছিলাম, হয় তোমরা বাজারের কোনও বড় প্রযোজক খোঁজ করো যেখানে তোমাদের এই স্বতন্ত্র ভাবনার সঙ্গে কিছুটা আপস করতে হতে পারে, অথবা আমার সঙ্গে যৌথভাবে এটা প্রযোজনা করো। নীল ঠিক করে নিয়েছিল ওঁর প্রথম ছবিটা ও একদম স্বাধীনভাবেই বানাবে। ও একজন নতুন সিনেমাটোগ্রাফার এবং প্রায় সব নতুন মুখ নিয়ে কাজ শুরু করে।”

    অঞ্জনবাবুর নিজের ছবির মেজাজ বা ‘চালচিত্র এখন’-এর চেয়ে নীলের এই ছবি একেবারেই আলাদা। এটি মূলত একটি মজাদার, জমজমাট ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ ছবি, যেখানে একঝাঁক নতুন অভিনেতা কাজ করেছেন। ছবির নতুন অভিনেতাদের জন্য ওয়ার্কশপ করিয়েছিলেন স্বয়ং অঞ্জন দত্ত।

    ছেলের কাজের প্রশংসা করে অঞ্জন আরও লিখেছেন, “সিনেমার পছন্দের ক্ষেত্রে নীল আমার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ও একটা ভীষণ উপভোগ্য, মজাদার এবং একই সঙ্গে মন ছুঁয়ে যাওয়া ছবি তৈরির ওপর জোর দিয়েছিল। এটা অত্যন্ত স্টাইলিশ, রঙিন, মজার এবং উত্তেজনায় ভরপুর একটা সিনেমা হয়ে উঠেছে, যা শেষ পর্যন্ত একটি অত্যন্ত গুরুতর সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় দর্শককে। ছবির গানগুলোও কিন্তু অসাধারণ হয়েছে।”
  • Link to this news (আজকাল)