শহরের বুকে আস্ত মাঠ ‘চুরি’। কিশোর-কিশোরীদের খেলার জায়গা বেদখল করে সেখানে ঘর তৈরি করে ভাড়াটে বসানো হয় ও মাঠের কিছু অংশ বিক্রিও করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ, প্রাক্তন কাউন্সিলরের মদতে ওই মাঠ দখলে হাত বাড়ান এলাকার এক প্রোমোটার ও তাঁর সঙ্গীরাও। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে এলাকার বাসিন্দাদের। নতুন সরকার আসার পরই সরব হয়েছেন পর্ণশ্রী এলাকার বাসিন্দারা। ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর অঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে পর্ণশ্রী থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়াও অরূপ নামের এক প্রোমোটার, তাঁর সঙ্গী অজয়, লাল্টুদের বিরুদ্ধেও থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে প্রোমোটারের নজরে পড়ে ওই মাঠ। তাতে মদত জোগান প্রাক্তন কাউন্সিলর অঞ্জন দাস। কয়েকজন মিলে ওই মাঠটি ‘দখল’ করে তাতে পাঁচিল দিতে থাকে। ফলে এলাকার কেউই আর মাঠে ঢুকতে পারতেন না। প্রথমে বাসিন্দারা মনে করেছিলেন যে, মাঠের আধুনিকীকরণ হচ্ছে। কিন্তু তার বদলে মাঠের এক পাশে কয়েকটি বেড়ার ঘর তৈরি করা হয়। ওই ঘরে ভাড়াটেও বসিয়ে দেওয়া হয়। এমনকী, ওই মাঠের জমি কয়েকজনকে বিক্রিও করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি মাঠের ভিতর ফের কাঠামো বসিয়ে মাঠের অন্য অংশ দখল করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ।
এরপরই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। কার অনুমতিতে খেলার মাঠে পাঁচিল দিয়ে সাধারণের প্রবেশ বন্ধ করা হল, তা জানার চেষ্টা হচ্ছে। এই ব্যাপারে পুরসভা কোনও নির্দেশিকা জারি করেছিল কি না, সেই তথ্যও পুলিশ জানার চেষ্টা করছে। মাঠের ভিতর কীভাবে ঘর তৈরি করে থাকার ব্যবস্থা করা হল, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। তদন্তের জন্য অভিযুক্ত প্রাক্তন কাউন্সিলরকেও পুলিশ নোটিস দিতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এই ব্যাপারে যে প্রোমোটার ও তাঁর সঙ্গীদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের চিহ্নিত করে জেরার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।