৫ বছরে টাকা দ্বিগুণ করতে কোন স্কিমে বিনিয়োগ করবেন? জেনে নিন
News18 বাংলা | ২৫ মে ২০২৬
বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু টাকা সঞ্চয় করলেই হবে না, সেই টাকাকে বাড়ানোও জরুরি। অনেকেই এমন বিনিয়োগের খোঁজ করেন যেখানে কয়েক বছরের মধ্যে ভাল রিটার্ন পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে প্রশ্ন ওঠে, মাত্র ৫ বছরে টাকা দ্বিগুণ করতে হলে কোথায় বিনিয়োগ করা উচিত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও বিনিয়োগই নিশ্চিতভাবে ৫ বছরে টাকা দ্বিগুণ হওয়ার গ্যারান্টি দিতে পারে না। কারণ রিটার্ন নির্ভর করে বাজার পরিস্থিতি, সুদের হার ও ঝুঁকির উপর। তবুও কিছু বিনিয়োগের বিকল্প রয়েছে যেখানে দীর্ঘমেয়াদে ভাল রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
টাকা দ্বিগুণের হিসেব কীভাবে বোঝা যায়? বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘Rule of 72’ খুব জনপ্রিয় একটি ধারণা। এই নিয়ম অনুযায়ী — কত বছরে টাকা দ্বিগুণ হবে = 72 ÷ বার্ষিক রিটার্নের হার অর্থাৎ, ১২% রিটার্ন পেলে প্রায় ৬ বছরে টাকা দ্বিগুণ হতে পারে। আর ১৫% রিটার্ন হলে সময় আরও কমতে পারে।
(১) Mutual Fund SIP - বর্তমানে SIP বা Systematic Investment Plan অনেকের কাছেই জনপ্রিয়। ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে দীর্ঘমেয়াদে ১২% থেকে ১৫% পর্যন্ত রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বাজার ভাল থাকলে ৫-৬ বছরের মধ্যে বিনিয়োগ অনেকটাই বাড়তে পারে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল কম টাকা দিয়েও শুরু করা যায়। দীর্ঘমেয়াদে কামপাউন্ডিং এর সুবিধা পাওয়া যায়। ঝুঁকি হচ্ছে বাজার পড়লে রিটার্ন কমতে পারে। পাশাপাশি নিশ্চিত লাভের গ্যারান্টি নেই।
(২) Stock Market Investment - সরাসরি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করলে তুলনামূলক বেশি রিটার্ন পাওয়ার সুযোগ থাকে। কিছু ভাল কোম্পানির শেয়ার দীর্ঘমেয়াদে বহু গুণ বেড়েছে। তবে এখানে ঝুঁকিও অনেক বেশি। ভুল শেয়ারে বিনিয়োগ করলে বড় ক্ষতিও হতে পারে।
(৩) Gold ETF বা ডিজিটাল গোল্ডসোনার দাম দীর্ঘমেয়াদে সাধারণত বাড়তেই দেখা যায়। তাই অনেকেই Gold ETF বা Sovereign Gold Bond-এ বিনিয়োগ করেন। যদিও ৫ বছরে টাকা দ্বিগুণ হওয়া কঠিন, তবুও বাজারের অনিশ্চয়তার সময় সোনা নিরাপদ বিকল্প হিসেবে ধরা হয়।
(৪) PPF বা সরকারি স্কিম-যাঁরা ঝুঁকি নিতে চান না, তাঁদের জন্য PPF, NSC বা Post Office Scheme ভাল বিকল্প হতে পারে। তবে এই ধরনের স্কিমে ৫ বছরে টাকা দ্বিগুণ হওয়া সাধারণত সম্ভব নয়। এখানে রিটার্ন কম হলেও নিরাপত্তা বেশি থাকে।
(৫) Real Estate Investment - কিছু এলাকায় জমি বা ফ্ল্যাটের দাম দ্রুত বাড়তে দেখা যায়। সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করলে ভাল লাভ হতে পারে। তবে এখানে বড় অঙ্কের টাকা লাগে এবং Liquidity কম থাকে।
কোথায় বিনিয়োগ করা সবচেয়ে ভাল - এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা ও আর্থিক লক্ষ্যের উপর।
এই ভুলগুলি করবেন না :
- শুধুমাত্র “টাকা দ্বিগুণ” এই ভাবনায় প্রভাবিত হয়ে বিনিয়োগ করবেন না
- গ্যারান্টিযুক্ত উচ্চ রিটার্নের ফাঁদে পড়বেন না
- সব টাকা এক জায়গায় বিনিয়োগ করবেন না
- ঝুঁকি না বুঝে শেয়ার বাজারে নামবেন না।
৫ বছরে টাকা দ্বিগুণ করতে চাইলে তুলনামূলক বেশি রিটার্নের বিনিয়োগ বেছে নিতে হয়, আর তার সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ে। তাই বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং সময়সীমা ভালভাবে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।