বিশ্বমঞ্চ পার করে এবার বাংলায় মুক্তির পথে 'পিঞ্জর'
eTV Bharat | ২৫ মে ২০২৬
কলকাতা, 25 মে: 'চেজিং ড্রিমস ফিল্মস' প্রযোজিত ও 'বেল জার ফিল্মস' সহযোগিতায় নির্মিত আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত বাংলা ছবি ‘পিঞ্জর’ আগামী 10 জুলাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা ও স্বীকৃতি অর্জনের পর এবার বাংলার দর্শকদের সামনে আসছে এই ছবি।
মানুষের অন্তর্গত বন্দিত্ব, সমাজের অদৃশ্য খাঁচা এবং নীরব মানসিক লড়াইকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘পিঞ্জর’ এক গভীর মানবিক গল্প। প্রতীকধর্মী উপস্থাপনা ও সংবেদনশীল চিত্রভাষার মাধ্যমে ছবিটি স্বাধীনতা, ট্রমা, টিকে থাকা এবং আত্মপরিচয়ের প্রশ্নকে নতুনভাবে তুলে ধরে। ছবিতে অভিনয় করেছেন জয় সেনগুপ্ত, সাগ্নিক মুখোপাধ্যায়, মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা শঙ্কর, শতাক্ষী নন্দী, ঈশান মজুমদার, সামিউল আলম, তথাগত মুখোপাধ্যায়, স্বস্তিদীপা রবিদাস।
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই ‘পিঞ্জর’ তার সাফল্যের ছাপ রেখেছে একাধিক মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। ছবিটি প্রদর্শিত হয়েছে 'হ্যাপিফেস্ট', 'শিকাগো সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল', 'সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ মনট্রিল', 'ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ সিডনি', 'কলকাতা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল' 'ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল টরন্টো', 'থার্ড আই এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল', 'এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল বার্সেলোনা', 'লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল'-এর মতো উল্লেখযোগ্য মঞ্চে।
ছবি প্রসঙ্গে পরিচালক ডা. রুদ্রজিৎ রায় বলেন, "পিঞ্জর আসলে সেই অদৃশ্য খাঁচাগুলোর গল্প, যেখানে মানুষ প্রতিদিন মানসিক, সামাজিক ও আবেগগতভাবে বন্দি হয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি যে ভালোবাসা ও সম্মান পেয়েছে, তা আমাদের গোটা টিমকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।" 2 ঘণ্টা 17 মিনিটের এই ছবিটি তারক, শেফালি, ঝিমলি, ইকবাল এবং পারমিতাদের কেন্দ্রে রেখে এগোয়। এদের জীবনের নানারকম গল্পই এই ছবির প্রেক্ষাপট। পরিচালক আরও বলেন, "আমরা মানুষ হলেও সকলেই একটা পিঞ্জরে বা খাঁচায় বন্দি। কীভাবে বন্দি সেটা এক একজনের ক্ষেত্রে এক এক রকম। সেই সব কিছু পিঞ্জরে বন্দি মানুষদের গল্পই রয়েছে এই ছবিতে।"
ছবির আবহসঙ্গীত নির্মাণ করেছেন রাতুল শঙ্কর, যাঁর সুর ছবির আবেগকে আরও গভীরতা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, শক্তিশালী অভিনয় এবং আবেগঘন নির্মাণশৈলীর কারণে ‘পিঞ্জর’ ইতিমধ্যেই এই মরশুমের অন্যতম প্রতীক্ষিত বাংলা ছবি হয়ে উঠেছে। আগামী 10 জুলাই, দর্শক সাক্ষী থাকবেন এমন এক গল্পের যেখানে প্রতিটি নীরবতার ভিতরে লুকিয়ে আছে যন্ত্রণা, আর প্রতিটি খাঁচা খুঁজে ফেরে মুক্তির পথ।