• সংবাদমাধ্যমের কাছে বিবৃতি নয়, ত্বিষার মৃত্যুতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তে জোর সুপ্রিম কোর্টের
    এই সময় | ২৫ মে ২০২৬
  • বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই নয়ডার তরুণী ত্বিষা শর্মার অস্বাভাবিক মৃত্যুতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে সুপ্রিম কোর্ট। ত্বিষার মৃত্যুতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছে শীর্ষ আদালত। সোমবার সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি সূর্ষ কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চালির বেঞ্চ জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশ সরকার ঘটনার তদন্ত করতে সিবিআই-কে দায়িত্ব দিয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উচিত, অবিলম্বে ওই ঘটনার তদন্তভার নেওয়া। একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষের উচিত সংবাদমাধ্যমের কাছে বিবৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকা। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষের উচিত, কেবল মাত্র তদন্তকারী সংস্থার কাছেই বক্তব্য পেশ করা। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশ সরকার যে হেতু ইতিমধ্য়েই সিবিআই-কে তদন্ত করতে অনুরোধ করেছে, তাই এই মুহূর্তে আদালত এই মামলায় কোনও নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছে না।

    বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশ সরকার ঘটনার তদন্ত করতে CBI-কে দায়িত্ব দিয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উচিত, অবিলম্বে ওই ঘটনার তদন্তভার নেওয়া। একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষের উচিত সংবাদমাধ্যমের কাছে বিবৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকা। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষের উচিত, কেবল মাত্র তদন্তকারী সংস্থার কাছেই বক্তব্য পেশ করা। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি গণমাধ্যমের কারণে এই মামলার তদন্তে কিছুটা অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। তবে আমাদের কোনও ধরনের ন্যারেটিভ তৈরি করা থেকে বিরত থাকা উচিত।’

    বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় গত ১২ মে নয়ডায় শ্বশুরবাড়িতে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায় ত্বিষাকে। তাঁর স্বামী সমর্থ সিং একজন আইনজীবী। ত্বিষার শাশুড়ি অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারক। ওই তরুণীর মৃত্যুর পরে তাঁর বাপের বাড়ির লোকজন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তোলেন শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। মডেল-অভিনেত্রী ত্বিষার অস্বাভাবিক মৃত্যুতে প্রবল শোরগোল পড়েছে দেশ জুড়ে। তরুণীর বাপের বাড়ির লোকজন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে। মৃত্যুর তদন্তে তরুণীর শাশুড়ি তাঁর প্রভাব খাটিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সমর্থকে পুলিশ ঘটনার ১০ দিন পরে গ্রেপ্তার করায় তা নিয়েও সমাজমাধ্যমে প্রবল সমালোচনা হয়।

    এ দিন মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে, ঘটনার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সমাজে নিজের মতো করে একটি ব্যাখ্য়া (ন্যারেটিভ) তৈরি হয়েছে। সেখানে বিচার প্রক্রিয়া ও তদন্তে দেরি হওয়ার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে, যা নিয়ে আদালত কিছুটা হলেও উদ্বিগ্ন। সেই কারণেই ওই তরুণীর মৃত্যুতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছে শীর্ষ আদালত।

    শুনানিতে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, সিবিআই এই মামলার তদন্ত করবে এবং আজই (সোমবার) এই ব্যাপারে প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে।

    ত্বিষার পরিবারের আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা আদালতে জানান, ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত গিরিবালা সিং বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে মৃত তরুণীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন সব মন্তব্য করেছেন, যা মৃতের পক্ষে অসম্মানজনক। একই সঙ্গে ওই আইনজীবী জানান, মৃত্যুর তিন দিন পরে পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে। তদন্তকারীরা তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। মৃত তরুণীর শাশুড়ি তাঁর ফোনের কল ডিটেলস সর্বসমক্ষে প্রকাশ করেছেন, যা আদৌ সমর্থন যোগ্য নয়।

    সলিসিটর জেনারেল আদালতে অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত মহিলা তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। একই সঙ্গে তিনি জানান, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের নির্দেশে ভোপালের AIIMS-এ ওই তরুণীর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হয়েছে।

    অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবী সিদ্ধার্থ ডাভে ত্বিষার মৃত্যু নিয়ে মিডিয়া কভারেজের প্রবল আপত্তি জানান। তিনি তাঁর সওয়ালে জানান, ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যে গোপন জবানবন্দি দেওয়া হয়েছে, তা বিস্তারিত আকারে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)