নিউরোলজিতে দেশের সেরা, রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক পেলেন পুরুলিয়ার অনুশ্রী
News18 বাংলা | ২৫ মে ২০২৬
: পুরুলিয়ার বলরামপুর আজ গর্বে উজ্জ্বল। জেলার মাটির মেয়ে ডাঃ অনুশ্রী পাল নিজের অসামান্য মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে পৌঁছে গেলেন দেশের অন্যতম সেরা সম্মানের আসরে। দিল্লির ঐতিহাসিক বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত গৌরবময় অনুষ্ঠানে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রী জেপি নাড্ডা-র হাত থেকে তিনি গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক ‘প্রেসিডেন্টস গোল্ড মেডেল’।
একটি ছোট শহরের সাধারণ পরিবারের মেয়ের এই সাফল্য যেন আজ সমগ্র পুরুলিয়ার স্বপ্নপূরণের গল্প। নিউরোলজিতে ডিআরএনবি পরীক্ষায় বিভাগে টপার হয়ে দেশের সেরা চিকিৎসকদের তালিকায় নিজের নাম তুলে এনেছেন অনুশ্রী। দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল বিভাগ মিলিয়ে মোট ১৩৭ জন কৃতী চিকিৎসককে সম্মান জানান হলেও, বলরামপুরের মানুষের কাছে এই সম্মান যেন আবেগ, গর্ব আর অনুপ্রেরণার এক অনন্য অধ্যায়।
১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জন্ম নেওয়া অনুশ্রীর শিক্ষাজীবনের শুরু হয়েছিল বলরামপুরের ছোট্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘বিবেকানন্দ শিশু নিকেতন’-এ। পরে লালীমতী বালিকা বিদ্যালয় ও পুরুলিয়া শান্তময়ী বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে নজর কাড়েন তিনি। এরপর জয়েন্ট পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে জেনারেল মেডিসিনে এমডি এবং পরবর্তীতে কলকাতার ইন্সটিটিউট অফ নিউরো সায়েন্স থেকে নিউরোলজিতে ডিআরএনবি ডিগ্রি অর্জন করেন।
এ বিষয়ে অনুশ্রী পালের বাবা অমৃত পাল বলেন , মেয়ের এই সাফল্যে তিনি আপ্লুত। ছোটবেলা থেকেই বিরাট মেধাবী ছিল তার মেয়ে। স্কুল-কলেজ সমস্ত জায়গাতেই নিজের মেধার জন্য চর্চিত ছিল। অনুশ্রীর এই সাফল্যের পেছনে তার মায়েরও বিরাট অবদান রয়েছে। মেয়েকে নিয়ে গর্বিত তিনি। তবে এই সাফল্যের গল্প শুধু ডিগ্রির নয়, এটি লড়াই, শৃঙ্খলা ও পারিবারিক ত্যাগের গল্পও। মাধ্যমিক পর্যন্ত কোনও প্রাইভেট টিউটর ছাড়াই বাবা-মায়ের তত্ত্বাবধানে এগিয়েছে তাঁর পড়াশোনা। বিশেষ করে মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম ও উৎসাহ আজকের এই উচ্চতায় পৌঁছনোর অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে কলকাতার ইন্সটিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সে অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ডাঃ অনুশ্রী পাল আজ শুধু একজন সফল চিকিৎসক নন, তিনি মফস্বলের হাজারও ছাত্রছাত্রীর কাছে এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। বলরামপুরের গলি থেকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মানের মঞ্চে পৌঁছে তিনি যেন প্রমাণ করে দিলেন, স্বপ্ন যদি বড় হয়, তাহলে ছোট শহর কখনও বাধা হতে পারে না।