ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্লাস্টিকের বদলে বাঁশ,বেতের তৈরি দেশজ উপকরণ ব্যবহারে ডাক দেওয়া হয়। সমাজ থেকে প্লাস্টিক মুক্ত করার লক্ষ্যে এবং বাংলার গ্রামীণ কুটির শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। এদিনের অনুষ্ঠানে বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যের মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি, বর্ধমান শহরের ৩৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটি স্কুলের প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানাধিকারীসহ মোট ১৫২ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধিত করা হয়।
তবে প্রথাগত প্লাস্টিকের মোড়কে মোড়া উপহার বা সামগ্রীর বদলে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পরিবেশ বান্ধব দেশজ উপহার। এমনকি অনুষ্ঠান মঞ্চও সাজিয়ে তোলা হয় বাঁশ ও বেতের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে। অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বর্ধমানের সুভাষপল্লী সারদা আশ্রমের স্বামী ত্রিদেবানন্দ পুরী মহারাজ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য বিশিষ্ট জনেরা। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশ সচেতনতার এই বার্তা শুধুমাত্র বর্ধমান শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
আগামী দিনে বর্ধমান সদর উত্তর ও দক্ষিণ মহকুমার পাশাপাশি কালনা ও কাটোয়া মহকুমার কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদেরও তাঁদের নিজস্ব মহকুমায় গিয়ে একইভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এককালীন আর্থিক বৃত্তি দেওয়ার কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সম্পাদক প্রলয় মজুমদার এদিন জানিয়েছেন, সমাজ থেকে প্লাষ্টিক মুক্ত করার জন্য তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করে চলেছেন। এবার তাঁরা বাংলার গ্রামাঞ্চলের হাতের কাজের শিল্পীদের তৈরি দেশজ বিভিন্ন দ্রব্যকে হাতিয়ার করতে শুরু করলেন।
বাড়ি থেকে স্কুল, অফিস সর্বত্রই প্লাষ্টিকের বদলে বাঁশ ও বেতের তৈরি বিভিন্ন দ্রব্যকে ডাষ্টবিন হিসাবে ব্যবহার করা, মাটির গ্লাস ব্যবহার করার ডাক দিয়েছেন। এমনকি ঘরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য যাঁরা প্লাষ্টিকের বিভিন্ন টব ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্যও এই বাঁশ ও বেতের তৈরি বিভিন্ন ধরণের ঝুড়ি, টব ব্যবহার করার আহ্বান জানাচ্ছেন। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার এই অভিনব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উপস্থিত অভিভাবকরা। পরিবেশ রক্ষায় ছাত্র সমাজই যে আগামী দিনের মূল কাণ্ডারি হতে পারে, এদিনের অনুষ্ঠান সেটাই বারবার তলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।