সল্টলেকে বিজেপির কার্যালয়ে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনতে ‘জনতার দরবার’-এ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিজেপি অফিসের সামনে ভিড় জমান বহু মানুষ। জনতার দরবারে এসেছিলেন চাকরিপ্রার্থীরাও। তাঁরা নিজের সমস্যার কথা চিঠি দিয়ে জানান মুখ্যমন্ত্রীকে। তাঁরা চান, OMR-এর নম্বরের ভিত্তিতে যোগ্যতার মাপকাঠিতে ফ্রেশ সিলেকশন হোক। নতুন সরকার তাঁদের সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ করবে বলে আশাবাদী তাঁরা।
‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী এবং অনশনকারী মঞ্চ’-র আহ্বায়ক সুমন বিশ্বাসের কথায়, ‘২২ লক্ষ চাকরি প্রার্থীর OMR প্রকাশ ও OMR-এর ভিত্তিতে প্রাপ্ত নম্বর, অ্যাকাডেমিক এবং ন্যূনতম ১০ নম্বরের ভিত্তিতে নিয়োগ নিয়ে আমাদের অনেক দিনের লড়াই। সুপ্রিম কোর্ট সেই অর্ডার দিলেও ফ্রেশ সিলেকশন হয়নি। SLST-2 2025 পরীক্ষা হলেও, তা ওপেন সিলেকশন। তার সঙ্গে ফ্রেশ সিলেকশনের কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা চিঠি দিয়েছি এবং মুখ্যমন্ত্রী যাতে আমাদের সঙ্গে নবান্নে একটি বৈঠক করেন সেই আবেদনও রেখেছি।’
যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী এবং অনশনকারী মঞ্চের সদস্যদের অভিযোগ, আগের মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষ তো দূরে থাক, দলের নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গেই দেখা করতেন না। মুখ্যমন্ত্রী যে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করেন, সেটা শুভেন্দু অধিকারী প্রমাণ করে দিলেন।
সুমন জানান, আগামী ৩১ অগস্ট পর্যন্ত চাকরিহারারা সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারে এক্সটেনশনে আছেন। চাকরিহারারা এ বার মুক্তি চান। এই সরকার জনগণের সরকার। তারা বিধানসভায় আইন করে স্বচ্ছ নিয়োগের সব রকম ব্যবস্থা করবে বলেও আশাবাদী চাকরিহারারা।
শুধু শিক্ষক পদে চাকরিপ্রার্থীরাই নন, এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে এসেছিলেন পুলিশে চাকরিপ্রার্থীরাও। মেয়েদের উচ্চতা সংক্রান্ত একটি সমস্যার কথা তুলে ধরেন তাঁরা। সুস্মিতা ধাড়া নামে এক চাকরিপ্রার্থী সংবাদমাধ্যমে জানান, পশ্চিমবঙ্গের জনগণনা অনুযায়ী এখানকার মেয়েদের গড় উচ্চতা ১৫১.১ সেন্টিমিটার। অথচ বাংলায় পুলিশে মহিলাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৬০ সেন্টিমিটার উচ্চতা হতে হয়। যা অনেকটাই বেশি। কেন্দ্রেও পুলিশে নিয়োগে মেয়েদের গড় উচ্চতার ক্ষেত্রে গড়ে ১৫৭ সেন্টিমিটার চাওয়া হয়। সেই উচ্চতার মাপকাঠি থাকায় পশ্চিমবঙ্গে বহু মেয়ে পুলিশে যোগ দিতে পারেন না। তা এসআই, কনস্টেবল, আবগারি পুলিশ বা কলকাতা পুলিশে নিয়োগেই হোক না কেন।