আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের ১৪ জন কাউন্সিলরের পদত্যাগের জেরে অবশেষে ভেঙে দেওয়া হল কাঁথি পৌরসভার বোর্ড। প্রশাসনিক ভাবে আজ সোমবার থেকে কাঁথির মহকুমা শাসক ধুমাল প্রতীক অশোক (এসডিও) পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব ভার গ্রহণ করলেন। এরপর থেকে তাঁর নেতৃত্বেই চলবে কাঁথি পৌরসভার সমস্ত প্রশাসনিক কাজকর্ম। তাকে সহযোগিতা করবেন বাকি যে সমস্ত কাউন্সিলাররা রয়েছেন। আজ দায়িত্ব গ্রহণের দিন উপস্থিত ছিলেন বিজেপির তিন কাউন্সিলর অরূপ কুমার দাস, সুশীল দাস, তাপস দোলাই এবং তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে আশা কাউন্সিলর তথা প্রাক্তন পৌরপ্রধান সুবল মান্না সহ পৌরসভার আধিকারিক ও কর্মীরা।
দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছিল। বিভিন্ন কাজের জন্য পৌরসভায় এসে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছিল পৌরবাসীদের এমন অভিযোগ উঠেছিল। সরকার বদলের পর পৌরসভায় আসছিলেন না পৌরপ্রধান সুপ্রকাশ গিরি সহ তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলররা। কাউন্সিলররা কেন আসছেন না এই নিয়ে প্রত্যেক কাউন্সিলরকে চিঠি করেছিল পৌরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার। তারপরই একে একে ভাইস চেয়ারম্যান সহ ১৪ জন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলরগণ পদত্যাগ পত্র জমা দেন। এরপর বোর্ড ভেঙে প্রশাসকের হাতে দায়িত্ব যাওয়ার পর পরিষেবা আরও দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে মিলবে বলেই আশা করছেন সাধারণ মানুষ। কাঁথির সংসদ সৌমেন্দু অধিকারী জানান কাঁথি পৌরসভা এক প্রকার অচলাবস্থায় ছিল। আমি কয়েকদিন আগে পৌরসভায় গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলেছি। আজ মহকুমা শাসক পৌর প্রশাসকের দায়িত্বভার নেওয়ার পর মানুষের পরিষেভায় আশা করি অসুবিধে হবে না।
বিজেপি কাউন্সিলর তথা দক্ষিণ কাঁথির বিধায়ক অরূপ কুমার দাসের দাবি, নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে এবং পৌরসভার কাজকর্মে গতি আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে পানীয় জল, রাস্তা, নিকাশি, ট্রেড লাইসেন্স সহ বিভিন্ন পরিষেবা যাতে দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, তার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ১৪ জন কাউন্সিলরের একযোগে পদত্যাগের পর থেকেই কাঁথি পৌরসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চলছিল। অবশেষে প্রশাসক নিয়োগের পর সেই জল্পনার অবসান হল।কাঁথি পৌরসভার ২১ টি ওয়ার্ডের মধ্যে তিনটি আসনে কাউন্সিলর বিজেপির। ১৮টি তৃণমূল কংগ্রেসের। একটি নির্দল। পরে একজন কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগদান করে। চারটি আসনে বিজেপি ছিল।