• হাওড়ার ‘ত্রাস’ আকাশকে রাস্তায় ঘোরাল পুলিশ
    আজকাল | ২৫ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কিংবা খোদ রক্ষকের ওপর আঘাত হানলে প্রশাসনের হাত যে কতটা কঠোর হতে পারে, তার চাক্ষুষ প্রমাণ পেল উত্তর হাওড়াবাসী। গত কয়েক বছর ধরে যে নামের আতঙ্কে চড়ত এলাকার পারদ, সেই কুখ্যাত দুষ্কৃতী আকাশ সিংকে কার্যত নজিরবিহীনভাবে জনসমক্ষে আনা হল। মাথায় চুল নেই, পরনে কেবল স্যান্ডো গেঞ্জি আর অন্তর্বাস— এই বেশেই পুলিশের ঘেরাটোপে মাথা নীচু করে হাঁটতে দেখা গেল একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই ‘ডন’কে।

    গত ১৩ই মে হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আকাশ ও তার এক সহযোগীকে জালে তোলে। এরপর রবিবার সকালে উত্তর হাওড়ার জনাকীর্ণ বাজার এলাকায় তাকে নিয়ে আসা হয়। উদ্দেশ্য ছিল অপরাধের ‘ক্রাইম সিন পুনর্নির্মাণ’। কিন্তু চিরাচরিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে পুলিশ যেভাবে তাকে জনসমক্ষে নিয়ে আসে, তা দেখে থমকে যান পথচলতি সাধারণ মানুষ। এলাকার বাসিন্দাদের চোখে-মুখে তখন আতঙ্কের বদলে স্বস্তির ছাপ। ভিড়ের মধ্য থেকেই কেউ কেউ মন্তব্য করেন, “ঠিক হয়েছে, এবার অন্তত এলাকায় শান্তি ফিরবে।”

    পুলিশি সূত্রে খবর, আকাশ সিংয়ের বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই মধ্যে উত্তর হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস ছড়াতে অন্তত ২০টিরও বেশি বোমাবাজির ঘটনার মূল চক্রী এই আকাশ। ২০২১ সালে খোদ কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর মতন দুঃসাহসিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবার কাছেই সে ছিল ত্রাসের অপর নাম। তাঁদের কাছ থেকে তোলাবাজি ও ভীতিপ্রদর্শনের মত অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার নাম। দীর্ঘদিন ধরে সে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মে মাসের শুরু থেকেই তার ওপর নজরদারি বাড়ায় প্রশাসন। অবশেষে গোয়েন্দা বিভাগের তৎপরতায় তাকে খাঁচাবন্দি করা সম্ভব হয়।

    আকাশ সিংকে এই অবস্থায় রাস্তায় ঘোরানোর পেছনে প্রশাসনের একটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং সুদূরপ্রসারী সামাজিক বার্তা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এতদিন যে অপরাধীরা নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে মনে করত, তাদের কাছে এই ঘটনা একটি চরম হুঁশিয়ারি। প্রশাসন স্পষ্ট করে দিল যে, অপরাধের সাম্রাজ্য যতই বড় হোক না কেন, শেষ পরিণতি অত্যন্ত লজ্জাজনক হতে পারে।

     ২০২১ সালে পুলিশের ওপর গুলি চালানোর সাহস দেখিয়েছিল আকাশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নিয়েই স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, পুলিশের গায়ে হাত দিলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। পার্ক সার্কাসের সভা থেকে তাঁর দেওয়া সেই হুঁশিয়ারিরই বাস্তব প্রতিফলন ঘটল উত্তর হাওড়ার রাজপথে। ‘পুলিশের গায়ে হাত দিলে রেয়াত নয়’— এই নীতিই খোদ পুলিশমন্ত্রী প্রমাণ করে দিলেন।

     কুখ্যাত অপরাধীদের দাপটে সাধারণ মানুষ যখন তটস্থ, তখন এই ধরণের পদক্ষেপ তাঁদের মনে প্রশাসনের প্রতি আস্থা ও নিরাপত্তা বোধ ফিরিয়ে আনে। ডনের ভাবমূর্তি ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে পুলিশ প্রমাণ করল যে, আইন সবার জন্য সমান।

    রবিবারের এই ঘটনার পর উত্তর হাওড়ার সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরলেও, এই ধরণের শাস্তিমূলক বা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ আইনি পরিধির মধ্যে কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আপাতত এলাকার বাসিন্দারা যে দীর্ঘদিনের এক ত্রাসের রাজত্ব থেকে মুক্তি পেলেন, তা বলাই বাহুল্য।
  • Link to this news (আজকাল)