• মুর্শিদাবাদে ৩ জনকে পাঠানো হল ‘হোল্ডিং সেন্টারে’!
    আজকাল | ২৫ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ নীতি চালু করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মুর্শিদাবাদ জেলায় তিন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে তাঁদের লালগোলায় তৈরি হওয়া ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ পাঠাল মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন। 

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের লালগোলা এবং ভগবানগোলা সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন ওই তিন বাংলাদেশি নাগরিক। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর লালগোলার পদ্মা ভবনে যে হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হয়েছে সেখানেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদেরকে। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী এরপর তিন অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী নাগরিককে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং তাঁদের বাংলাদেশের 'পুশব্যাক' করা হবে। 

    প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দেন অবৈধভাবে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদেরকে পুলিশের আর গ্রেপ্তার করার দরকার নেই। তার পরিবর্তে পুলিশ ধৃত বিদেশি নাগরিকদেরকে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেবে এবং বিএসএফ তাঁদের বাংলাদেশের পাঠিয়ে দেবে। এই সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রতি সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানোরও নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। 

    মুখ্যমন্ত্রী এই নির্দেশ দেওয়ার পরই রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে প্রত্যেক জেলার জেলাশাসককে একটি করে ‘হোল্ডিং ক্যাম্প’ তৈরি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী নাগরিক এবং রোহিঙ্গাদের রাখা হবে। তাঁদের নাগরিকত্ব যাচাই হওয়ার পরই নিজের দেশে ‘পুশব্যাক’ করে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এই কাজে প্রায় ৩০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে অনুমান। ততদিন ধৃত অনুপ্রবেশকারীরা ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ থাকবেন।

    প্রসঙ্গত ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপির তরফ থেকে বারবার তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশে মদত দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারে বলা হয়েছিল, তারা ক্ষমতায় এলেই বিএসএফকে সীমান্ত বরাবর কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করা হবে। শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর ইতিমধ্যেই সেই কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। 

    সূত্রের খবর, গত ৪৮ ঘণ্টায় মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা এবং ভগবানগোলা সীমান্তের দু'টি এলাকা দিয়ে বেআইনিভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের হাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং রাজশাহী এলাকার তিন নাগরিক ধরা পড়েছেন। 

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই ব্যক্তির নাম রাজু শেখ এবং নাইদ শেখ। সূত্রের খবর, এই দু'জনকেই লালগোলা থেকে ধরা হয়েছে। তাঁদের বাড়ি যথাক্রমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং রাজশাহী জেলায়।  ভগবানগোলা থেকে যে বাংলাদেশি নাগরিককে ধরা পড়েছেন তাঁর বাড়িও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। সূত্রের খবর, এরা প্রত্যেকেই চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে আপাতত তিন বাংলাদেশী নাগরিককে লালগোলার পদ্মা ভবনে তিন তলায় যে হোল্ডিং সেন্টার করা হয়েছে সেখানেই রাখা হয়েছে। 

    এই প্রসঙ্গে বিজেপির মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সৌমেন মণ্ডল বলেন, “নির্বাচনী প্রচারে আমরা বারবার বেআইনি অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। বিজেপি শাসিত বাকি রাজ্যে থেকেও বেআইনি বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো শুরু হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলাতে আগেও অনেক অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছে। এবার তিন জনকে ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ পাঠানো হয়েছে। আমাদের অনুমান আগামীদিনে আরও অনুপ্রবেশকারীকে ওই ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ যেতে হবে।”
  • Link to this news (আজকাল)