• ৮২ জন পুলিশকে নতুন করে ফিরিয়ে আনা হল
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৫ মে ২০২৬
  • ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর কলকাতা পুলিশ থেকে সরিয়ে দেওয়া বহু পুলিশকর্মীকে ফের কলকাতা পুলিশ বাহিনীতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হল। প্রায় এক দশক পরে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে যাঁদের কলকাতার বাইরে জেলা পুলিশে বদলি করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যেই ৮২ জন জুনিয়র স্তরের অফিসারকে ফের কলকাতা পুলিশের অধীনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    বর্তমান কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ ইতিমধ্যেই রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের কাছে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশের ক্রমবর্ধমান জনবল সংকট মোকাবিলার জন্যই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। কমিশনারের তরফে শুধু ওই অফিসারদের ফিরিয়ে আনার আবেদনই নয়, অস্থায়ীভাবে রাজ্য পুলিশের কর্মীদের কলকাতা পুলিশের কাজে নিয়োগের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চালু রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। বর্তমানে গোটা প্রস্তাবটি স্বরাষ্ট্র দফতরের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

    সূত্রের খবর, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় ওই অফিসারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তাঁরা শাসকদলের কিছু নেতার অনানুষ্ঠানিক নির্দেশ না মেনে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই কাজ করেছিলেন। এরপরই তাঁদের কলকাতা পুলিশ থেকে সরিয়ে বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয় বলে অভিযোগ। যদিও সরকারিভাবে কখনও এই অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি, তবুও প্রশাসনিক মহলে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত প্রায় ১০ বছরে ওই ৮২ জন অফিসারের কাউকেই আর কলকাতা পুলিশে ফিরিয়ে আনা হয়নি। সেই সময় কলকাতা পুলিশের কমিশনার ছিলেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজীব কুমার যিনি বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ।

    এর আগেও একবার এই অফিসারদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হয়েছিল। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ভাঙড় ডিভিশন কলকাতা পুলিশের আওতায় আসার পরে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হয়েছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু সেই প্রস্তাব উচ্চস্তরে অনুমোদন পায়নি।

    প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কলকাতা পুলিশের জনবল ঘাটতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত কর্মীর প্রয়োজন বাড়ছে। সেই কারণেই অভিজ্ঞ অফিসারদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, এই পদক্ষেপ সেই অধ্যায়েরই এক নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)