জেল জুজুতে পাপের প্রায়শ্চিত্ত! ৫ বছর পর তোলাবাজির টাকা ফেরালেন তৃণমূল নেতা
প্রতিদিন | ২৫ মে ২০২৬
পাঁচ বছর আগেকার পাপের প্রায়শ্চিত্ত! একুশের ভোটে বিপুল জয়ের পর এলাকায় দাপট বেড়ে গিয়েছিল গোসাবার পরিতোষ দাস নামে ওই নেতার। কথায় কথায় হুমকি দিয়ে প্রতিবেশীদের থেকেও টাকা আদায় করতেন। কিন্তু ছাব্বিশে পালাবদলের পর জেলের ‘জুজু’ দেখছেন তিনি। মামলার ভয়ে তিনি তোলাবাজির ৮০ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিয়ে এলেন বিজেপি কর্মী প্রতিবেশী। তাও আবার রাতের অন্ধকারে, চুপিসাড়ে। তবে ঘটনা জানাজানি হতেই প্রতিবেশীদের কটাক্ষ, বদলের বাংলায় কত কী-ই না হচ্ছে!
সুন্দরবন উপকূলীয় থানার অন্তর্গত গোসাবার পালপুর ৩৩ নং বুথের সভাপতি পরিতোষ দাস। একুশের ভোটে এই জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের বড়সড় জয়ের পর স্রেফ পদাধিকার বলে এলাকায় দাপট জারি রেখেছিলেন। দলীয় কার্যালয় তৈরির জন্য প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তোলা আদায় করতেন বলে অভিযোগ। এলাকারই এক বাসিন্দা সন্তোষ জানা সক্রিয় বিজেপি কর্মী। অভিযোগ, বিজেপি করার ‘অপরাধে’ সন্তোষকে সেসময় হুমকি, হামলার শিকার হতে হয়। বাধ্য হয়ে তৃণমূলের তৎকালীন বুথ সভাপতি পরিতোষের দ্বারস্থ হন। হামলা বন্ধের প্রায় ‘শর্ত’ হিসেবে সন্তোষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন। দু’দফায় তাঁর থেকে মোট ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
পাঁচ বছর পর রাজ্যে পালাবদল হতেই ভোলবদল দাপুটে তৃণমূল নেতা পরিতোষ দাসের! রাতের আঁধারে পরিতোষ গিয়ে সন্তোষের বাড়িতে যান। পাঁচ বছর আগে নেওয়া সেই ৮০ হাজার টাকার পুরোটাই তুলে দেন সন্তোষের হাতে। অন্ধকারে টাকা ফেরত দিতে গেলে কী হবে? সন্তোষবাবু ক্যামেরায় রেকর্ড করে রাখেন। আর তা নিমেষের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। দেখেশুনে সকলেই বলছে, কীভাবে এত বছর ধরে তোলাবাজি করেছে তৃণমূল, এটা তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। তবু ভালো এখন বোধোদয় হয়েছে, তাই টাকা ফেরত দিচ্ছে। আবার এলাকার বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের মত, কোনও বোধোদয় নয়। আসলে তোলাবাজি নিয়ে পরিতোষের বিরুদ্ধে মামলা হলে গ্রেপ্তার হতে পারেন, সেই ভয়েই তাঁর টাকা ফেরত দেওয়া।