• পিয়াকে সরিয়ে ইম্পার সভাপতি পদে রতন সাহা, হাজির গৌতম ঘোষ
    eTV Bharat | ২৫ মে ২০২৬
  • কলকাতা, 25 মে: 'ধ্বনি' ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থনে পিয়া সেনগুপ্তকে সরিয়ে ইম্পার সভাপতি পদে বসলেন রতন সাহা। সোমবার সকালে ইম্পা অফিসে হাজির হন রতন সাহা। হাজির ছিলেন তাঁর অগণিত সমর্থক। ছায়ার মতো পাশে ছিলেন রতন সাহার পুত্র শতদীপ সাহা। হাজির ছিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ। নতুন দায়িত্ব পেয়ে আপ্লুত রতন সাহা বলেন, "আমাদের উদ্দেশ্য ভালো ছবি দর্শককে উপহার দেওয়া। আমরা চাই না সিনেমায়ে রাজনৈতিক রঙ লাগুক।"

    উল্লেখ্য, বিজেপি এ রাজ্যে সরকার গঠনের পর থেকেই সিনে ইন্ডাস্ট্রিতে বিপুল বদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগের সবকিছুকে বদলে নতুনভাবে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে দেখতে চাইছে একাংশ সিনে দুনিয়ার মানুষ। সেই হাওয়া 4 মে'র পরদিন থেকেই লেগেছে ইম্পা হাউজে। ইম্পা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন এক সংখ্যক প্রযোজক-পরিবেশক। কয়েকদিন ধরেই দফায় দফায় চলেছে মিটিং। দাবি ছিল একটাই, পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগ এবং ইম্পা-তে নতুন কমিটি গঠন।

    কিন্তু পিয়া সেনগুপ্তর সভাপতি পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা 2027-এর সেপ্টেম্বর মাসে। তখন সঠিক পথে ভোটের মাধ্যমে সভাপতির নাম নির্ধারণের কথা বলেছেন পিয়া। জানিয়েছিলেন তার আগে তিনি পদত্যাগ করবেন না। পিয়া সেনগুপ্তর নামে টাকা তছরুপ, কাটমানি, অবৈধ কমিটি চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে প্রযোজক-পরিবেশকদের তরফে। তারও যথাযথ প্রমাণ চেয়েছেন পিয়া সেনগুপ্ত।

    এরপর 22 মে চতুর্থ বারের জন্য সমস্ত সদস্যদকে নিয়ে সাধারণ বৈঠক করার ডাক দেন ইম্পা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। কিন্তু কোথায় বৈঠক? বৈঠকের বদলে রীতিমতো ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে সংগঠনের অফিসে। 'ফাইল চোর' বলেও অপমান করা হয় পিয়াকে। সেদিন অধিক সংখ্যক মানু্ষ হাজির ছিলেন ইম্পাতে। 'ধ্বনি' ভোটের মাধ্যমে অধিকাংশ মানুষ পিয়ার বদলে রতন সাহাকে সভাপতি হিসেবে নিয়ে আসার সমর্থন জানান।আর তার ভিত্তিতেই পিয়া সেনগুপ্তকে সেদিনই সরে যেতে বলা হয়। যতদিন না ভোট হয় ততদিন রতন সাহা সভাপতিত্বে থাকবেন। সময়মতো ভোট হবে। তারপরে সেই অনুযায়ী কমিটি গঠন হবে।" পিয়া সেনগুপ্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন অতিরিক্ত ভিড় এবং চিৎকারে। তিনি।পুলিশের দ্বারস্থ হন।

    কাট টু। সোমবারের দুপুর। ইম্পা অফিসে হাজির রতন সাহা। তাঁকে বড়, 7 কেজি ওজনের মালা পরিয়ে সম্বর্ধনা ও শুভেচ্ছা জানানো হয় এদিন। পিতলের সরস্বতী মূর্তি দেওয়া হয় রতন সাহাকে। যতদিন না ইম্পার ফের নির্বাচন হচ্ছে, তিনিই থাকবেন দায়িত্বে। পিয়া সেনগুপ্তর দাবি আজও একই, "যেরকম গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমি নির্বাচিত হয়েছি, সেভাবেই আমাকে সরানো হোক। ওরা পুলিশকেও মানছে না! নিজেরাই কমিটি গঠন করবে। আমরা আইনের পথে হাঁটব। আইনি লড়াই হবে, তারপর ওরা যা পারে করুক।" আজ সোমবার বিকেল 4 টেয় কলকাতার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকের ডাক দিয়েছেন পিয়া সেনগুপ্ত। হাজির থাকার কথা পাপিয়া অধিকারীরও।
  • Link to this news (eTV Bharat)