• 'বুলডোজার রাজনীতি' থেকে এসআইআর, বিজেপিকে নিশানা কুণাল-বাবুলের
    eTV Bharat | ২৫ মে ২০২৬
  • কলকাতা, 25 মে: পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধি, হকার উচ্ছেদ, ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি থেকে শুরু করে এসআইআর প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ ভোটার বাতিল— একাধিক ইস্যুতে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ শানালো তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ ও বাবুল সুপ্রিয়।

    সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় 27 লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার বাতিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান তৃণমূল সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। তিনি অভিযোগ করেন, এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের প্রতি চরম অন্যায় করা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট স্যাম্পেল সাইজের ওপর ভিত্তি করে মাত্র কয়েকজনের তথ্য পরীক্ষা করেই এত বিপুল সংখ্যক মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, অবিলম্বে এই বাতিল হওয়া ভোটারদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে এবং এই ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবে।

    আসন্ন বকরি ঈদ এবং তার আগে রাজ্যে স্লটার হাউস বন্ধ ও হকার উচ্ছেদ নিয়েও বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ান তৃণমূল নেতৃত্ব। একই সঙ্গে বুলডোজার নীতি নিয়েও সরব হন তিনি। বাবুল সুপ্রিয় জানান, কোনোরকম আগাম নোটিশ ছাড়াই বুলডোজার চালিয়ে হকার উচ্ছেদ বা স্লটার হাউস বন্ধ করে দেওয়ার রাজনীতি বাংলায় চলবে না।

    তিনি এই আচরণের সঙ্গে নোটবন্দি এবং আচমকা লকডাউনের তুলনা টেনে বলেন, ‘‘গরিব মানুষদের রুটি-রুজির ওপর এভাবে হঠাৎ আক্রমণ নামিয়ে আনা চরম অমানবিক। হকারদের উচ্ছেদ করার আগে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প বসার জায়গা করে দেওয়া সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব৷’’ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির 'বুলডোজার মডেল'-এর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘সমাজে বিভাজন তৈরি করতেই এই ধরনের হঠকারী পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’’

    অন্যদিকে, জ্বালানির ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের সমালোচনা করেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনের আগে দিল্লির নেতারা রাজ্যে এসে প্রতিশ্রুতি দিলেও, ভোট মিটতেই চতুর্থবার পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কলকাতায় পেট্রলের দাম দিল্লির তুলনায় প্রায় সাড়ে 11 টাকা বেশি হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।’’ যুদ্ধ পরিস্থিতির অজুহাত উড়িয়ে দিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘2014 সাল থেকে লাগাতার দাম বাড়ানো হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও পরিবহণ খরচের ওপর।’’ তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারকে কর কমানোর কথা বলার আগে কেন্দ্রের উচিত পেট্রোলিয়াম কোম্পানিগুলির মুনাফা থেকে সাধারণ মানুষকে সুরাহা দেওয়া এবং নিজেদের চাপানো কর অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।

    অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গাদের জন্য রাজ্যে ডিটেনশন ক্যাম্প বা 'হোল্ডিং সেন্টার' তৈরির তৎপরতারও কড়া বিরোধিতা করেন কুণাল ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানান, সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকানোর দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিএসএফ-এর। তারা নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে এখন রাজ্যের ওপর দায় চাপাচ্ছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাতিল হওয়া বৈধ ভোটারদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্তা করার জন্যই এই ধরনের ক্যাম্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, আগে বিএসএফ-এর উচিত বর্ডারে কড়া নজরদারি চালানো।

    পাশাপাশি, রাজ্যে নির্বাচন চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেতারা। কুণাল ঘোষ বেহালার একটি শ্লীলতাহানির ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘‘এপ্রিল মাসে যখন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের হাতে ছিল, তখন এই ধরনের নারী নির্যাতনের ঘটনা কীভাবে ঘটল? কমিশন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের এর দায় নিতে হবে৷’’ এছাড়া, নির্বাচন কমিশনের প্রাক্তন আধিকারিকদের পরবর্তীকালে সরকারের উচ্চপদে নিয়োগ নিয়েও নৈতিকতার প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।

    মুখ্যমন্ত্রীর 'জনতা দরবার' প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ জানান, তৃণমূল আমলে সাধারণ মানুষের সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজেদের অভাব-অভিযোগ জানানোর সুযোগ সবসময়ই ছিল এবং এর দ্রুত নিষ্পত্তিও হয়। সাংবাদিক বৈঠকের শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাংবাদিক সম্মেলন না করা নিয়েও কটাক্ষ করেন বাবুল সুপ্রিয়। তিনি জানান, বিরোধীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে ভয় পান বলেই প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র 'মন কি বাত' করেন৷ কিন্তু সাধারণ মানুষের কথা শোনার বা প্রেস কনফারেন্স করার সদিচ্ছা তাঁর নেই। সবশেষে, ফলতার পুনর্নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর পরেও সিপিএমের জিততে না পারাকে বামেদের চরম রাজনৈতিক ব্যর্থতা বলেও কটাক্ষ করে তৃণমূল।
  • Link to this news (eTV Bharat)