• ঐতিহ্যে আধুনিকতার ছোঁয়া! এবার ডিজিটাল মাধ্যমে দক্ষিণা ও প্রণামী দানের ব্যবস্থা মালদহের প্রাচীন হ্যান্টা কালীমন্দিরে
    News18 বাংলা | ২৫ মে ২০২৬
  • মালদহ শহরের বুকে অবস্থিত জেলার অন্যতম প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ মা হ্যান্টা কালী মন্দির এখন আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য বহনকারী এই মন্দিরে এবার যুক্ত হয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। ভক্তদের সুবিধার্থে চালু হয়েছে ডিজিটাল দক্ষিণা ব্যবস্থা। ফলে এখন আর শুধু নগদ টাকায় নয়, কিউআর কোড ও বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যমের সাহায্যে সহজেই দক্ষিণা প্রদান করতে পারবেন দর্শনার্থীরা। মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশ স্বাধীন হওয়ার সময়কাল অর্থাৎ ১৯৪৭ সালে মালদহ শহরে মন্দিরটির পুনর্নির্মাণ করা হয়। যদিও স্থানীয়দের বিশ্বাস, বহু শতাব্দী ধরেই এখানে পূজিত হয়ে আসছেন মা হ্যান্টা কালী।

    ধর্মীয় আস্থা, অলৌকিক মাহাত্ম্য ও ঐতিহ্যের কারণে সারা বছরই এখানে ভক্তদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। প্রতি অমাবস্যা তিথিতে মন্দিরে বিশেষ ভক্ত সমাগম হয়। তবে সবচেয়ে বড় উৎসব অনুষ্ঠিত হয় অগ্রহায়ণ অমাবস্যায়, যখন বিশেষ পূজা, আরতি ও নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয় মা হ্যান্টা কালীর বাৎসরিক পুজো। ওই সময় জেলা তো বটেই, ভিন জেলা থেকেও হাজার হাজার ভক্তের আগমন ঘটে। মন্দিরের সেবায়েত অচিন্ত্য ভট্টাচার্য জানান, “আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের সুবিধার কথা ভেবেই ডিজিটাল দক্ষিণার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক সময় দর্শনার্থীদের কাছে নগদ অর্থ না থাকায় এই উদ্যোগ বিশেষভাবে কার্যকর হয়েছে।”এক দর্শনার্থী আশিস চৌধুরী বলেন, “এই মন্দিরে নিয়মিত ভক্তদের ভিড় থাকে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর মুখে মা হ্যান্টা কালীর নাম উচ্চারিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষের কৌতূহল ও আগ্রহ আরও বেড়েছে।”

    মালদহ টাউন স্টেশন থেকে মাত্র প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে, মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত এই মন্দির। সহজ যাতায়াত, আধ্যাত্মিক আবহ ও মায়ের জাগ্রত মাহাত্ম্যের টানে মা হ্যান্টা কালী মন্দির আজও মালদহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান ও ভক্তদের বিশ্বাসের কেন্দ্র হয়ে রয়েছে। ঐতিহ্যের ভিত মজবুত রেখেই এবার প্রযুক্তির হাত ধরে আরও এক নতুন অধ্যায়ে পা রাখল এই প্রাচীন মন্দির।
  • Link to this news (News18 বাংলা)