ভোরের আলো ফুটতেই চাঞ্চল্য! পুরুলিয়ার নদীয়াড়া গ্রামে প্রাচীন রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি
News18 বাংলা | ২৫ মে ২০২৬
: গভীর রাতের অন্ধকার পেরিয়ে যখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর দৃশ্য। পুরুলিয়া মফস্বল থানার নদীয়াড়া গ্রামের প্রাচীন রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা এলাকা। ভাঙা তালা, তছনছ মন্দির চত্বর আর খালি হয়ে যাওয়া দানপাত্র— সকালের নিস্তব্ধতাকে যেন মুহূর্তে আতঙ্কে বদলে দিল।
সোমবার ভোরে মন্দিরের এক সেবায়ত প্রতিদিনের মতো পূজার প্রস্তুতি নিতে এসে দেখেন, মন্দিরের প্রতিটি দরজার তালা ভাঙা। ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে লণ্ডভণ্ড অবস্থা। বিগ্রহের বিভিন্ন অলঙ্কার ও উপকরণ, কাঁসার বাসনপত্র, একাধিক বাদ্যযন্ত্র সহ মন্দিরের মূল্যবান সামগ্রী উধাও। দানপাত্রটিও ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে মন্দির চত্বরে জড়ো হন গ্রামবাসীরা। এলাকার মানুষের চোখেমুখে আতঙ্ক ও ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুরুলিয়া মফস্বল থানার পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত। স্থানীয়দের দাবি, নদীয়াড়া গ্রামে এর আগেও একাধিকবার চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারকে হাতিয়ার করেই সক্রিয় হয়ে উঠছে দুষ্কৃতীরা। দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব এলাকাবাসী।
ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি করেছে মন্দিরের পূজারী খগেন্দ্রনাথ গোপ। শুধু নদীয়াড়াই নয়, গত কয়েকদিন ধরে গোটা পুরুলিয়া জেলা জুড়েই যেন চুরির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার গভীর রাতে বলরামপুর থানা এলাকায় একসঙ্গে পাঁচটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। একইভাবে টামনা থানা এলাকাতেও একাধিক জায়গায় চুরির অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। একাধিক ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। রাতের অন্ধকারে কারা এই সংঘবদ্ধ চক্র চালাচ্ছে, তা জানতে শুরু হয়েছে জোর তদন্ত।