ক্ষতিগ্রস্থ জমি মালিকদের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে টাকা, মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পরেই তড়তড় করে এগোচ্ছে কাজ
News18 বাংলা | ২৫ মে ২০২৬
দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ আর নিরাপত্তা শঙ্কার পর অবশেষে বদলের ছবি দেখা যাচ্ছে ফাঁসিদেওয়া-চটহাট অঞ্চলের মুরিখোয়া গ্রামে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা বছরের পর বছর কাঁটাতারবিহীন থাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে ছিল উদ্বেগ। জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সীমান্ত সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ এই কাজ দীর্ঘদিন আটকে ছিল। তবে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই সীমান্ত নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সীমান্তে দ্রুত ফেন্সিংয়ের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সেই সিদ্ধান্তের পর প্রশাসনিক স্তরে শুরু হয় দ্রুত তৎপরতা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুরিখোয়া এলাকায় প্রয়োজনীয় জমি চিহ্নিত করে কৃষকদের কাছ থেকে অধিগ্রহণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের সঠিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু কৃষক তাঁদের প্রাপ্য অর্থ পেয়েছেন এবং বাকি জমিগুলির ক্ষেত্রেও নথিপত্র যাচাই করে দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার কাজ চলছে। এই উদ্যোগের ফলে খুশি এলাকাবাসী।
পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য পলিসাহা জানান নতুন সরকার আশায় সীমান্তে বাড়ছে নজরদারি। এর ফলে অনেক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে এলাকার মানুষ। আগে অতি সহজে গরু চুরি হয়ে যেত। তবে সীমান্তে কাঁটাতার বসার ঘোষণা হতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে এলাকার মানুষ। অন্যদিকে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ-এর নজরদারিও আগের তুলনায় অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে।
নিয়মিত টহল, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং কড়া পর্যবেক্ষণের ফলে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান কার্যকলাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে প্রশাসনের দাবি। এই পরিবর্তনে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর সীমান্ত এলাকায় এখন অনেকটাই নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এবিষয়ে এলাকার এক যুবক পার্থ মালাকার জানান, সম্পূর্ণ এলাকাজুড়ে ফেন্সিংয়ের কাজ শেষ হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত হবে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আরও সহজ হবে বলে তাঁদের আশা।