• দম্পতির হাতের জাদুতে মোহিত 'মেম-সাহেবরা', ছোট মূর্তি বানিয়ে ঘরে বসে অঢেল আয়
    News18 বাংলা | ২৫ মে ২০২৬
  • পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের প্রত্যন্ত একটা গ্রাম সুখপুকুরিয়া। চারপাশে গ্রামবাংলার শান্ত পরিবেশ, সাধারণ জীবনযাপন। কিন্তু সেই গ্রামেরই এক দম্পতির হাতে তৈরি শিল্পকর্ম আজ পৌঁছে যাচ্ছে দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতে। জাপান, রাশিয়া, আমেরিকা সহ একাধিক দেশে বাড়ছে তাঁদের তৈরি বিশেষ ধরনের “মিনিয়েচার মূর্তি”-র চাহিদা। শিল্পী রুদ্রপ্রসাদ ঘটক ও তাঁর স্ত্রী বিজয়া ঘটকের হাতের কাজ এখন বিদেশের মাটিতেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। রুদ্রপ্রসাদ ঘটক ও বিজয়া ঘটক দুজনেই শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীর কলাভবনের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী।

    দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, শিল্পচর্চা এবং নিখুঁত দক্ষতাকেই তাঁরা আজ নিজেদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করেন। মূলত মাটি দিয়ে প্রথমে তৈরি করা হয় একটি মডেল। সেই মডেল যাচাই করার পর গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী ফাইবার, সিলিকন কিংবা ধাতুর মাধ্যমে তৈরি করা হয় চূড়ান্ত মূর্তি। কখনও আবক্ষ মূর্তি, কখনও আবার পূর্ণাঙ্গ মূর্তি সবটাই তৈরি হয় অত্যন্ত যত্ন ও সূক্ষ্ম শিল্পকৌশলের মাধ্যমে। বর্তমানে তাঁদের সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজ হল “মিনিয়েচার মূর্তি” বা ছোট আকৃতির বিশেষ মূর্তি। আধুনিক সময়ে এই ধরনের ছোট মূর্তির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। কারণ সহজে ঘরে সাজিয়ে রাখা যায়, বহন করাও সুবিধাজনক।

    বিদেশে উপহার হিসেবেও এই ধরনের শিল্পকর্মের জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিল্পীরা। কেউ যদি নিজের প্রিয় মানুষের ছবি দেন, সেই ছবির হুবহু আদলে তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে মূর্তি। অনেকেই পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্যও এই ধরনের বিশেষ মূর্তি তৈরি করাচ্ছেন। ফলে আবেগ এবং শিল্প দুইয়ের মিশ্রণ ঘটছে এই কাজে। রুদ্রপ্রসাদ ঘটক জানান, একটি মূর্তি তৈরি করতে সময়, ধৈর্য এবং সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাজের মূল্য নির্ধারণ হয় মূলত কতটা সময় ও পরিশ্রম লাগছে তারওপর। তবে ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা বা তারও বেশি দাম হতে পারে একটা মূর্তির।

    অন্যদিকে বিজয়া ঘটক জানিয়েছেন, সংসারের সমস্ত কাজ সামলেও দিনের পর দিন সময় দিতে হয় এই শিল্পচর্চায়। একটি মূর্তি তৈরি করতে অনেক সময় চার থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত লেগে যায়। সবমিলিয়ে গ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়েই নিজেদের শিল্পকে আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দিয়েছেন এই দম্পতি। তাঁদের এই সাফল্য শুধু মঙ্গলকোট নয়, গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলার কাছেই গর্বের বিষয়। সীমিত সুযোগের মধ্যেও যে নিষ্ঠা, প্রতিভা এবং কঠোর পরিশ্রম মানুষকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে পারে, রুদ্রপ্রসাদ ও বিজয়া ঘটকের জীবনযাত্রা যেন সেই কথাই আবার প্রমাণ করে দিল।
  • Link to this news (News18 বাংলা)