বারাসত পোস্ট অফিসে আচমকা খাদ্যমন্ত্রীর হানা, সিএএ সার্টিফিকেট পরিষেবা পেতে এসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষকে, এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই এদিন আচমকা বারাসত হেড পোস্ট অফিসে পরিদর্শনে যান রাজ্যের খাদ্য মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া।
সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, বিপুল সংখ্যক উপভোক্তা পোস্ট অফিসে অপেক্ষা করলেও পরিষেবা দেওয়ার জন্য কাউন্টার রয়েছে মাত্র দুটি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চাপ বাড়ছে কর্মীদের উপর এবং দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। মন্ত্রী পোস্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, সিএএ ফর্ম ফিলাপ ও সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে এসে বারবার হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানা যায়।
চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে সিএএ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই কারণেই গত এক সপ্তাহ ধরে বারাসত হেড পোস্ট অফিসে হাজার হাজার মানুষের ভিড় বাড়ছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মন্ত্রী বারাসত রিজিওনাল হেড পোস্ট অফিসের সুপারিনটেনডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করতে এবং সিএএ সার্টিফিকেট প্রাপকদের হয়রানিমুক্ত পরিষেবা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
পাশাপাশি অতিরিক্ত কাউন্টার ও কর্মী বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে অন্নপূর্ণা যোজনার নাম সংযুক্তি ও সংশোধনের কাজও একসঙ্গে চলছে। ফলে প্রতিদিন প্রচুর মানুষের চাপ তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে সিএএ সংক্রান্ত পরিষেবার জন্যও বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিড় করছেন। কিন্তু কর্মচারীর সংখ্যা কম থাকায় দ্রুত পরিষেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। মন্ত্রী বিষয়টি রাজ্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানিয়ে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়ায় কিছুটা আশ্বস্ত পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষ।