মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জন্য ‘গর্বিত’ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মানস ভুঁইয়া। সবং থেকে সাত বার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। প্রথমে কংগ্রেসের হয়ে, পরে তৃণমূল কংগ্রেসে হয়ে। মাঝে রাজ্যসভার সাংসদও হয়েছিলেন মানস ভুঁইয়া। তবে চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনে নিজের গড় সবং-এই হেরেছেন তিনি। এই হারের জন্য নিজেকেই দায়ী করেছেন সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক।
অখণ্ড মেদিনীপুর জেলা থেকে রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায়। তার পরে এই এলাকা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন শুভেন্দু অধিকারী। কাঁথির বাসিন্দা হলেও ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি।
আর, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে, সোমবার, প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মানস ভুঁইয়া। নিজের দলীয় কার্যালয়ে বসে রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী তথা সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক প্রশংসা করলেন শুভেন্দু অধিকারীর। তিনি বলেন, ‘মেদিনীপুরের ছেলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। এই জন্য মেদিনীপুরের ছেলে হিসেবে আমি গর্ববোধ করি।’
উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন মানস ভুঁইয়া। শুভেন্দুও নিশানা করেন তাঁকে। তবে এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার শুভেন্দুর প্রশংসা করেন তিনি। মানস ভুঁইয়া জানান, তিনি চান শুভেন্দু অধিকারী যে প্রকল্পগুলির কথা বলেছিলেন সেগুলি বাস্তবায়িত হোক।
এই নির্বাচনে তিনি হেরেছেন বিজেপির অমল পণ্ডা-র কাছে। সবংয়ের রাজনীতিতে অমল পণ্ডা পরিচিত ছিলেন মানসের ‘ভোট ম্যানেজার’ হিসেবে। কেন এ বার হেরেছেন তিনি? এই হারের জন্য নিজেকেই দায়ী করেছেন মানস ভুঁইয়া। কোথায় কোনও ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে, ভবানীপুর কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুভেন্দু অধিকারী হারানোর পরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। এই নিয়ে কটাক্ষও করেছেন মানস।
অন্য দিকে, রাজ্য জুড়ে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা এবং দায়ী করেছেন দলের অনেক নেতাই। যদিও ওই নেতাদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানস ভুঁইয়া।