• পুলিশকর্মীকে হাফ প্যান্ট পরিয়ে ঘোরাল খোদ পুলিশই!
    আজকাল | ২৬ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে দুর্নীতি, ঘুষ এবং তোলাবাজির বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির এক নজিরবিহীন প্রতিফলন দেখল হাওড়ার সাঁকরাইল। খোদ পুলিশ প্রশাসনের ভিতর থাকা দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপ করল হাওড়া সিটি পুলিশ। শাসকদলের বিধায়কের ঘনিষ্ঠ এবং পুলিশেরই এক কর্মীকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করার পর, সোমবার তাঁকে হাফ প্যান্ট ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরিয়ে প্রকাশ্য এলাকায় ঘোরানো হল। ধৃতের নাম শাহিন মোল্লা ওরফে সানি। অভিযুক্ত মানিকপুর তদন্তকেন্দ্রের একজন ট্রাফিক হোমগার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং এলাকায় বিধায়কের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বা ‘ডান হাত’ বলে পরিচিত ছিলেন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রাফিক হোমগার্ডের চাকরি করলেও এলাকায় সানির প্রভাব ছিল আকাশছোঁয়া। গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে সাঁকরাইল ও সংলগ্ন এলাকায় তোলাবাজি চক্র চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী— সবাইকে ভয় দেখিয়ে বা নানাভাবে প্রভাব খাটিয়ে টাকা আদায় করাই ছিল তাঁর মূল কাজ। অবশেষে স্থানীয় এক সমাজকর্মী সানির এই লাগামহীন তোলাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

    আইন যে সবার জন্য সমান, তা প্রমাণ করতে এই ঘটনার পরেই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করে হাওড়া সিটি পুলিশ। গত ২২ মে বিভাগীয় তদন্ত ও প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে সানিকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এর ঠিক পরেই, শনিবার রাতে সাঁকরাইল থানার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রঘুদেববাটি শ্রীকৃষ্ণচক গ্রামে সানির নিজের বাড়িতে হানা দেয় এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করে। রবিবার ধৃতকে হাওড়া আদালতে তোলা হয়। 

    এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “সানি এলাকায় বিধায়ক প্রিয়া পালের ডানহাত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিধায়ক নিজেও সব জানতেন। প্রিয়া পালের নাম ভাঙিয়েই সানি দিনের পর দিন মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলত, মানুষের সাথে রফা করত। ওকে কেউ ফাঁসায়নি, ও নিজের পাপের শাস্তি পেয়েছে।”

    রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই তোলাবাজি, ঘুষ নেওয়া বা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন শীর্ষ নেতৃত্ব ও পুলিশ প্রশাসন। বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যে একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি এবার একজন খোদ পুলিশ কর্মীকে এভাবে গ্রেফতার ও প্রকাশ্যে ঘোরানোর ঘটনা বাকি দুর্নীতিগ্রস্তদের জন্য এক বড়সড় সতর্কবার্তা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
  • Link to this news (আজকাল)