আরজি করের পর এবার কামদুনি! আরও এক ফাইল খুলবে রাজ্যে?
আজকাল | ২৬ মে ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনী ইস্তেহারে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসলে নারী নির্যাতনের সমস্ত ঘটনার বিচার করা হবে। ইতিমধ্যেই আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ এবং খুনের মামলার তদন্ত নতুন করে শুরু করা হয়েছে। কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। এবার আরও এক ধর্ষণকাণ্ডের ফাইল খোলা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সোমবার কামদুনি ধর্ষণকাণ্ডে নির্যাতিতার পরিবার এবং কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ টুম্পা কয়াল বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করেন। শমীক তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, ফের কামদুনি ফাইল খোলা হবে। আগামী সোমবার জনতার দরবারে নির্যাতিতার পরিবার দেখা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে।
সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার নির্যাতিতা পরিবার সোমবার রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। সাক্ষাতের পরেই ফের কামদুনির ফাইল খোলার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি। তিনি জানান, সারা পশ্চিমবঙ্গবাসী চান কামদুনি ফাইল খুলুক।
নির্যাতিতার মা বলেন, “আরজি করের ফাইল যেমন খোলা হয়েছে। আমাদের ফাইলও যেন খোলা হয়। আমরা যেন ন্যায্য বিচার পাই। নিম্ন আদালতে এক রকম রায় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কলকাতা হাই কোর্টে রায় সম্পূর্ণ পাল্টে গেল। আগামী সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁর কাছে ফের ন্যায়বিচার চাইব।”
নির্যাতিতার ভাই বলেন, “২০১৩ সালে ঘটনার পরে ২০১৬ সালে মামলা হাই কোর্টে যায়। ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১৪ জন আইনজীবী পাল্টেছে রাজ্য সরকার। তখনই মনে হচ্ছিল আমি কি আমার বোনের বিচার পাব না? ২০২৩ সালে দেখা গেল ফাঁসির আসামি বেকসুর খালাস হয়ে গেল। বিচারপতি যখন রায় দিচ্ছেন তখন বলেন যে, সিআইডি প্রমাণ পেশ করতে ব্যর্থ। তাই এই রায় দিতে বাধ্য হচ্ছি। তখন ডিআইজি সিআইডি ছিলেন রাজীব কুমার, বিনীত গোয়েল ছিলেন ডিসি নর্থ। তাঁদের নির্দেশেই তথ্যপ্রমাণ লোপাট হয়েছে। ময়নাতদন্তে অনেক গলদ ছিল। তথ্যপ্রমাণ সব নষ্ট করেছে সিআইডি। আমরা ফের তদন্ত চাই। আশা করি পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা পাব।”
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসতের নিকটবর্তী কামদুনি গ্রামে ২০১৩ সালের জুন মাসে ২০ বছর বয়সী এক কলেজ ছাত্রীকে নৃশংসভাবে গণধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার পরে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীটিকে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে অপহরণ করা হয়। তাঁকে একটি পরিত্যক্ত কারখানায় নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে গণধর্ষণ ও হত্যা করা হয় এবং পরে তাঁর দেহ একটি মাঠে ফেলে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার নৃশংসতা এবং তদন্তে পুলিশের গাফিলতি গণ-আন্দোলনের জন্ম দেয়। কঠোর শাস্তির দাবিতে গ্রামবাসী ও স্থানীয় মহিলারা রাস্তায় নেমে আসেন। তদন্ত শুরু করে সিআইডি। গ্রেপ্তার করা হয় ন’জনকে। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে নগর দায়রা আদালত এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ন’জনের মধ্যে ছ’জনকে দোষী সাব্যস্ত করে। সইফুল আলি, আনসার আলি ও আমিন আলিকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি তিনজন ইমানুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম ও ভোলানাথ নস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়। অন্য দুই বেকসুর খালাস হন এবং একজন সন্দেহভাজন বিচার চলাকালীনই মারা যান।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে নিম্ন আদালতের রায় পাল্টে যায়। আদালত প্রমাণের অভাবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের একজন আমিন আলিকে বেকসুর খালাস করে দেয়। সইফুল আলি ও আনসার আলিকে মৃত্যুদণ্ড পাল্টে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।