• ফলতায় 'সেকেন্ড বয়' শম্ভুনাথ বলছেন, 'দায়িত্ব বাড়ল'
    আজকাল | ২৬ মে ২০২৬
  • রিয়া পাত্র

    ৪ মে। তৃণমূলের ভরাডুবি। ঠিক তারপরেই যেভাবে তৃণমূলের গ্রাফ পড়ছে, তাতে অনেকেই বলছেন, জোড়াফুল শিবিরের সাম্রাজ্য কার্যত ছিল তাসের ঘর। অল্প টোকাতেই ঝরছে ঝুরঝুর করে। আর সেই ধারণাকে আরও মান্যতা দিল ২৪ মে। ঠিক ২০ দিনের মাথায়, ফলতা উপনির্বাচন অভিষেকের তৈরি করা 'ডায়মন্ড হারবার মডেল'-এর কফিনে শেষ পেরেক হয়ে এসেছে। এই প্রসঙ্গে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে, ফলতায় তৃণমূলের ভোট-গ্রাফ। ২০২৪ সালে ফলতায় তৃণমূল ভোট পেয়েছিল ৮৯ শতাংশ। ২০২৬-এর উপনির্বাচনে পেল ৪ শতাংশ।

    তৃণমূল যখন তৃণমূল স্তরেও একপ্রকার ধূলিস্যাৎ, ঠিক তখনই ফিনিক্স পাখির মতো ফলতায় উঠে আসছে লাল পতাকা। ২০২৪ সালে ফলতায় বামেদের ভোট শতাংশ ছিল ১। ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়াল ১৯ শতাংশে। সেখানে বিজেপি প্রথম, দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বামেরা। এই বিধানসভা ভোটে লাল পতাকা শূন্যের গেরো কাটিয়েছে আগেই। তারপরেই একেবারে বাজিমাত এক সময়ের 'তৃণমূলের গড়' বলে পরিচিত ফলতায়। সেখানের এক ধাক্কায় ১৮ শতাংশ ভোট বাড়িয়ে কী বলছেন 'সেকন্ড বয়' শম্ভুনাথ কুড়মি? 

    আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানালেন ফলতার গত কয়েক বছরের পরিস্থিতি, বর্তমান পরিস্থিতি। জানালেন তাঁর বেড়ে যাওয়া 'দায়িত্ব' নিয়েও। 

    প্রশ্নঃ বামেদের শূন্যের গেরো কেটেছে আগেই, তবে এবার ফলতায় জামানত বাজেয়াপ্ত হল তৃণমূল নেতার, আর একেবারে টক্কর দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আপনি, দ্বিতীয় স্থানে লাল পতাকা... 

    উত্তরঃ সবকিছুর মূলে আসলে জনগণ। মানুষ। জানেন, এখানে দীর্ঘদিন মানুষ ভয়ে ভোট দিতে পারেননি। ভয়-কষ্ট-যন্ত্রণায় ভুগেছেন দিনের পর দিন। অস্বীকার  করার জায়গা নেই, সরকার বদলের পর, অনেকটা বদলেছে পরিস্থিতি। এখানে আগে আইনের শাসন ছিল না। কিন্তু দেখুন, ফলতায় এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস শুনতে পাবেন। 

    প্রশ্নঃ ঠিক কেমন ছিল পরিস্থিতি? উত্তরঃ জাহাঙ্গীর, পুলিশ, প্রশাসন, বিডিও- এখানে দল থেকে প্রশাসন, সবাই কেমন যেন মানুষের থেকে শত যোজন দূরে থাকত। আইনের শাসন নয়, ফলতায় তাদের শাসন চলত। উন্নয়নের নামে, নিজেদের ঠিক করা 'যা খুশি' করে বেড়াত। মানুষেত কিছু বলার জায়গা ছিল না। গণতন্ত্র ছিল কি আদেউ ফলতায়? ছিল না। আমি প্রার্থী হিসেবেও তো প্রচার করতে পারিনি। আমি বারবার বলেছি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। এবার সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসছে। এই দায় সাধারণ মানুষের। সাধারণ মানুষকে আমি অভিনন্দন, লাল সালাম জানাচ্ছি আপনাদের মাধ্যমেই। 

    প্রশ্নঃ  অভিষেক-জাহাঙ্গীরের দাপাদাপি, কবে থেকে বদলে গেল আপনাদের ফলতা?উত্তরঃ ২০১৪ ধরুন। সোমেন মিত্রকে সরিয়ে অভিষেক প্রার্থী হলেন, জিতলেন।  তারপর আসার পর থেকে ফলতা নয়, টোটাল ডায়মন্ড হারবার জুড়ে কী একটা 'মডেল' বলে চালু করলেন। মডেলটা হল এই যে, যত ওই সাতটা থানাতে যত গুন্ডা মস্তান বাহিনীদের, নিয়ে এসে প্রশাসনের মধ্যে বসাল। কিছু লোকজনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে লাগল। গুন্ডারাজ প্রতিষ্ঠা পেল, দিনে দিনে পরিস্থিতি এমন হল, ফলতার মানুষ ভুলেই গেল, গণতন্ত্র কী। উপায় কিছু ছিল না এখানে। আন্দোলন লুটের রাজনীতিতে পরিণত হল। আমরা যারা কিছু করতে গেলাম, ক্রমাগত বাধার মুখে পড়তে লাগলাম... 

    প্রশ্নঃ জাহাঙ্গীর। গোটা ডায়মন্ড হারবার জুড়ে এরকম কতজন জাহাঙ্গীর তৈরি করলেন অভিষেক? 

    উত্তরঃ একাধিক আছে। আপনি দেখুন না। দিলীপ মণ্ডল। ওর তো ফলতায় বাড়ি ছিল। গেল মামাবাড়ি, পৈলানে। তারপর একদিন এই বিশাল সম্পত্তি। ওদিকে ছিল শ্রীমন্ত, তাছাড়া সামিম, গৌতম অধিকারী, তালিকা লম্বা। 

    প্রশ্নঃ এই জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কখনও আপনার মুখোমুখি কথা হয়েছে কোনও দিন?উত্তরঃ না না। ওঁরা মাটির কাছাকাছি থাকত নাকি। থাকত কয়েকতলা উপরে। দলের কর্মীদের সঙ্গেই কথা বলত না। বিরোধী শূন্য করতে চেয়েছিল। আমাদের, বিরোধীদের প্রচার করতে দিত না। আমি এই ৪ তারিখের পর থেকে কয়েকদিন প্রচার করতে পারলাম। যদি আর একটু সময় পেতাম, এই মার্জিন বাড়ত অবশ্যই। কিন্তু জেনে রাখুন, এরা বিরোধীদের এত অত্যাচার করেছে, আমার সঙ্গে কেউ কথা বললে, তার উপর অত্যাচার করত। কথা বলতে পারত না কেউ ভয়ে। এবার জনগণ রায় দিলেন ওঁদেরই... 

    প্রশ্নঃ এই যে আপনি সেকেন্ড বয় হয়ে উঠে এলেন। ফার্স্ট না হওয়ার একটা দুঃখ থাকে কিন্তু দীর্ঘদিন পর সেকেন্ড হওয়ারও একটা আনন্দ থাকে তো, দলের নেতাদের সঙ্গে কথা হল? উত্তরঃ হ্যাঁ, আমার জেলার সম্পাদক, রাজ্যের সম্পাদক, সায়ন ব্যানার্জি,এদের সঙ্গে কথা হল। আসলে, আমার আরও দায়িত্ব বেড়ে গেল। দ্বিতীয় স্থানে থেকে বিরোধী রাজনীতি করব। আমার জোর বাড়ল। এখন আর কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না...
  • Link to this news (আজকাল)