ভোটের ঠিক মুখে, আজকাল ডট ইন-কে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে 'মমতার ভরসা' শেখ সুফিয়ান বলেছিলেন, নন্দীগ্রাম এবার আর ফেরাবে না 'দিদি'কে। লিড হবে অন্তত ২০ থেকে ৩০ হাজার। প্রার্থী যিনি ছিলেন, তিনি নিজেই যদিও দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে নিয়েছেন সন্তর্পণে। তবে কি নন্দীগ্রামে উপ নির্বাচনে এবার ঘাসফুল শিবিরের তুরুপের তাস সুফিয়ান? নন্দীগ্রাম আন্দোলনকে ভর করেই অক্সিজেন ফেরাবেন তিনি? যদিও দল এখনও এই ধরনের কোনও প্রস্তাব দেয়নি। তবে আগেভাগেই হাত তুলেছেন জাহাজবাড়ির 'নাবিক'। তাহলে কি এই 'নাবিক'ও বুঝতে পারছেন রাজ্যের ভরাডুবির পর ডুবেছে তাঁর জাহাজবাড়িও? এখন আর বিপদ বাড়িয়ে লাভ নেই? কয়েক মাসেই কি তাহলে তলানিতে আত্মবিশ্বাস এবং বিশ্বাস দুই'ই? আজকাল ডট ইন-কে একান্ত সাক্ষাৎকারে সুফিয়ান বলছেন চমকে ওঠা কথা-
প্রশ্নঃ দল হারতেই কি দূরত্ব বাড়াচ্ছেন? ক্ষোভ আপনারও?উত্তর: ক্ষোভ? ক্ষোভ কিছু নেই। একদম নেই।
প্রশ্নঃ তৃণমূলের কেন এই পরিস্থিতি হল নন্দীগ্রামে? উত্তরঃ এসআইআর-এ বহু নাম ডিলিট। তৃণমূলের বহু ভোট বাদ পড়েছে। দুই, জবরদস্তির ভোট হয়েছে এখানে। বেলা ১২টার পর গণনা হয়নি ঠিক করে, গণনা কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল যুগে, কোথায় কী হ্যাক হল, তা নিয়েও আমার সন্দেহ আছে।
প্রশ্নঃ এখানে তো উপনির্বাচনের একটা জায়গা রইল...উত্তরঃ রইল।
প্রশ্নঃ দল প্রার্থী হতে বললেও নাকি মুখ ঘুরিয়ে নেবেন? উত্তরঃ হ্যাঁ। হব না।
প্রশ্নঃ ক্ষোভ নেই, তাহলে এরকম দূরত্ব কেন? দল কি আদৌ আপনাকে প্রস্তাব দিয়েছে?উত্তরঃ না দল কিছু জানায়নি। কিন্তু, রাজনীতি তো আর সব সময়ের জন্য একটা জায়গা থাকে না। দল যাকে চাইবে তাঁকে প্রার্থী করবে। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে চাইব না দাঁড়াতে।
প্রশ্নঃ কিন্তু কেন?উত্তরঃ কারণ, আমি রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেব, অবসর নেব।
প্রশ্নঃ কিন্তু আজন্ম রাজনীতিকে, আন্দোলনকে আঁকড়ে থাকা একজন, রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে থাকবেন কী করে?উত্তরঃ সমস্যাটা হচ্ছে আমাকে তো পরিবারের সঙ্গে থাকতে হয়। আমার মেয়ে, জামাই, নাতি-নাতনি, স্ত্রী এরা চাইছে না যে, আর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে না। আমি তাই আর রাজনীতির সঙ্গে প্রকাশ্যে কোনও যোগাযোগ রাখব না, প্রত্যক্ষ যোগাযোগও থাকবে না। কিন্তু এটাও বলছি স্পষ্ট করে, আমি তৃণমূল দলকে ভালোবাসি, দিদিকে ভালোবাসি।
প্রশ্নঃ মমতা ব্যানার্জি যদি আপনাকে বলেন, নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে, তখন আপনি কি 'না' বলতে পারবেন?উত্তরঃ না, দিদির সামনে তো সবকিছু বলা যাবে না। দিদিকে আমি মায়ের মতো শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি। বোঝানোর চেষ্টা করব দিদিকে। যে আমি আর ভোটে দাঁড়াব না, রাজনীতিতে থাকব না।