• পুরসভা কি চাইলেই বেআইনি নির্মাণে বুলডোজার চালাতে পারে? আইন যা বলছে
    আজ তক | ২৬ মে ২০২৬
  • কলকাতা থেকে জেলা। একের পর এক বেআইনি নির্মাণে চলছে বুলডোজার অভিযান। তিলজলা, কসবা, বেলেঘাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পুরসভা এলাকায় অবৈধ বহুতল ভাঙা হচ্ছে। কিন্তু ঠিক কীভাবে কোনও নির্মাণকে 'বেআইনি' ঘোষণা করা যায়? পুরসভা কি চাইলেই একদিনে বুলডোজার চালাতে পারে? আইন কী বলছে, তা নিয়েই এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল বাড়ছে। অনেকে ফ্ল্যাটবাড়ি কিনে ফেলেছেন। তারপর আশঙ্কায় ঘুম উড়েছে। তাঁদের জন্যই এই প্রতিবেদন।

    আইন যা বলছে
    আইনজীবী পার্থসারথি ঘোষের কথায়, 'ভারতে কোনও পুরসভা বা প্রশাসন হঠাৎ করে গিয়ে কোনও বাড়ি ভেঙে দিতে পারে না। তার আগে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া মানতেই হয়। প্রথমে অভিযোগ বা পরিদর্শনের ভিত্তিতে বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করা হয়। তার পর সম্পত্তি মালিককে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়।'

    তিনি আরও বলেন, 'নোটিসে সাধারণত জানানো হয় কোন অংশ বেআইনি এবং কেন তা নিয়মবহির্ভূত। মালিককে জবাব দেওয়ার সময়ও দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে হিয়ারিং বা শুনানিও হয়। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ডেমোলিশন অর্ডার জারি করা হয়।'

    আইনজীবীর দাবি, কেউ চাইলে আদালতের দ্বারস্থও হতে পারেন। তাঁর কথায়, 'যদি বাড়ির মালিক মনে করেন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ভুল, তা হলে তিনি অবশ্যই হাইকোর্ট বা অন্য আদালতে যেতে পারেন। আদালত স্টে অর্ডার দিলে তখন ভাঙার কাজ থেমেও যেতে পারে।'

    রয়েছে ব্যাতিক্রমও
    তবে সব ক্ষেত্রেই যে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া চলে, এমন নয়। বিপজ্জনক বা ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ করতে পারে বলেও জানান আইনজীবী। পুরসভা বা স্থানীয় প্রশাসন যদি দেখে যে, সেই নির্মাণ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বিপদজনক, সেক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। 
    এছাড়াও সরকারি জমি, অন্য কারও জমি জবরদখল করে নির্মাণ প্রমাণিত হলেও সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

    অন্যদিকে, কোন্নগর পুরসভার এক আধিকারিক জানালেন, 'অনেক সময় দেখা যায় আমাদের থেকে প্ল্যান স্যাংশন করানোর সময় চারতলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ G+3। কিন্তু প্রোমোটার নিজের মুনাফার লোভে ছ'তলা বা সাততলা তৈরি করছেন। কোথাও আবার সেটব্যাক রুল মানা হচ্ছে না। এই ধরনের নির্মাণ শুধু বেআইনি নয়, বিপজ্জনকও। কারণ খুব পাশাপাশি অন্য বাড়ি থাকলে এর ফলে তার ভিতে চাপ পড়তে পারে। সাধারণ প্রোমোটারদের নির্মাণও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিক থেকে খুব আহামরি কিছু হয় না। বেশি উঁচু বিল্ডিং ভূমিকম্পে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে।'

    এমন ক্ষেত্রে নিয়ম কী?
    তিনি বলেন, 'আমরা প্রথমে নোটিস পাঠাই। অনেক ক্ষেত্রে নিজেরাই বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলেন মালিকরা। কিন্তু নির্দেশ না মানলে ডেমোলিশন টিম পাঠানো হয়। তখন পুলিশও থাকে, যাতে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা না হয়।' 
  • Link to this news (আজ তক)