শুধু গান গাইবার শখে ভ্রাম্যমান রোলের দোকান নিয়ে পৌঁছে যান খড়গপুর থেকে কলকাতার পথে, চিনুন গান পাগল ইন্দ্রজিতকে
News18 বাংলা | ২৬ মে ২০২৬
পেশায় রোল বিক্রেতা নেশা তাঁর গান! রোল ফেরিয়ালার গলায় গান শুনতেই থমকে দাঁড়াচ্ছে পথ চলতি মানুষ। রোল তৈরির ঠেলাগাড়ি আর কন্ঠে সুর নিয়ে খড়গপুর থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে গানের ফেরিওয়ালা ইন্দ্রজিৎ দলাই।
অভাবি পরিবারে শৈশবে পিতৃ হারা হয়ে আরও দুর্যোগ নেমে আসে পরিবারে। জীবন টিকিয়ে থাকতে শৈশবে শুরু হয় মা-ছেলের কঠিন লড়াই। দু’বেলা দু’মুঠো খাবার যোগাড় করতে লোকের বাড়িতে কাজ বেছে নেয় মা । মায়ের হাত ধরেই গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় পৌঁছন। মায়ের সঙ্গে নিজেও কলকাতায় কাজে লেগে পরা, তাই বেশিদূর লেখাপড়া এগোয়নি। স্কুল ফাইনাল পাশ করার আগেই নবম শ্রেণীতে সমাপ্ত হয় তাঁর লেখাপড়া। বার্ধক্য জনিত কারণ আর লোকের বাড়িতে কাজ করা শরীর সাথ দিচ্ছে না মায়ের। তাই কলকাতা থেকে খড়্গপুরে ফিরে যাওয়া। সেখান থেকেই নতুন লড়াই শুরু।
রাস্তার ধারে মা ও ছেলের ছোট্ট একটি ফাস্টফুড দোকান। শৈশব থেকে কঠোর পরিশ্রম কখনও মাছওয়ালা কখনও আইসক্রিম ফেরিওয়ালা কখনও সবজিওয়ালা আবার কখনও টলিভ্যান বা টোটো চালিয়ে ইমারতি দ্রব্য বহন করা। সারাদিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম, শেষে বিছানায় পিঠপাতলেই গানের জগতে প্রবেশ। শৈশব থেকেই গান শোনা ভীষণ পছন্দের। কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনতে শুনতে গুনগুণ করে গেয়ে ওঠা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এভাবেই চলত খালি গলায় গান গাওয়া।
আরও পড়ুন গরমে দামোদরে স্নান করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, তলিয়ে গেল ৩ যুবক, দেহ উদ্ধার
গভীর রাতে যখন নিস্তব্ধতা আর অন্ধকার গ্রাস করে রয়েছে এলাকা। সেই সময় প্রতিদিন প্রতিবেশীদের কানে বাজত ইন্দ্রজিতের গান। এভাবেই বছরের পর বছর গান শুনতে শুনতে গান গাওয়া। এখানেই শেষ নয়, কর্মব্যস্ততা দোকানে রোল চাওমিন তৈরির সময় গুনগুন করে গান গাওয়া। যা ক্রেতাদের মন জয় করে নেয় সে, প্রশংসাও পায়। সেই প্রশংসার সুবাদেই তার কঠোর জীবনে সুরের স্বপ্নের সঞ্চার।
আরও বেশি মানুষের কাছে কণ্ঠস্বর পৌঁছে দিতে ভ্রাম্যমান রোলের দোকান নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে ইন্দ্রজিৎ। খড়গপুর থেকে দীর্ঘ পথে গান গাইতে গাইতে রোল বিক্রি। গ্রামের ছেলের কঠোর পরিশ্রম এবং স্বপ্ন পূরণের ইচ্ছে দেখে অনেকেই অবাক হচ্ছেন, বহু মানুষ তার এই প্রচেষ্টাকে কুর্নিশ জানিয়েছে।
আরও পড়ুন Didi No 1: দিদি নম্বর ওয়ান ছাড়লেন রচনা? জুনিয়ার অভিনেতাদের হাতে চলে গেল সঞ্চালনার দায়িত্ব?
এ প্রসঙ্গে ইন্দ্রজিৎ দলাই জানান, শৈশবে বাবার মৃত্যুর পর জীবনে নেমে আসে, আরও কঠিন লড়াই। ছোট থেকে বুকে আগলে রেখে বড় করেছে মা। অনেক স্বপ্ন নিয়ে মায়ের সঙ্গে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে দিন কাটানো। এরই মধ্যে হঠাৎ করে মায়ের চলে যাওয়া। আরও অসহায় অবস্থা, একার জীবন। কিন্তু জীবনের থেমে যেতে নারাজ। কঠোর পরিশ্রম এর মধ্য দিয়ে জীবন প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য-তো ছিলই। সেই সঙ্গে স্বপ্ন পূরণ এর ইচ্ছা।
স্বপ্ন রয়েছে বড় মঞ্চে গান গাওয়া। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে মানুষের মন জয় করতে হবেই। তাই নিজের পেশাকে সামনে রেখেই স্বপ্নপূরণে বেরিয়ে পড়া। নিজের গতরকে সম্বল করে ২.৫ লক্ষ ঋণ নিয়ে মালবাহী টোটোকে ভ্রাম্যমান রোল দোকানে পরিণত করা। ৪.৫ চওড়া এবং লম্বায় প্রায় ৮ ফুট টোটোয় আলোকসজ্জা এবং সাউন্ড সিস্টেম সংযোগ করে বেরিয়ে পড়া। এই বাহন একদিকে যেমন রোল বিক্রির দোকান অন্যদিকে গানের মঞ্চ এবং আশ্রয়স্থান।