সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে চিংড়িঘাটা মোড়ে গার্ডার লঞ্চিংয়ের কাজ । চিংড়িঘাটার ৬২ মিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্টের ফাঁকটি সফলভাবে পূরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। নির্ধারিত সময়ের আগেই এই কাজ শেষ করা গিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল চিংড়িঘাটা। এই সংযোগস্থলটি নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট মেট্রো করিডোরটি সম্পূর্ণ করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওই লাইন সেক্টর V-এর আইটি হাবের সাথে সংযুক্ত করবে কলকাতার দক্ষিণ শহরতলিকে।
উল্লেখ্য আইনি জটে আটকে ছিল ওই এলাকার কাজ। তবে ওই কাজের জন্য অনুমতি দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার বলে দাবি করেছে বিজেপি। রাজ্য সরকারের ছাড়পত্র না পাওয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। কলকাতা হাইকোর্ট মেট্রোর বকেয়া কাজ মিটিয়ে ফেলার জন্যে নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। তবে সুপ্রিম কোর্টও কাজ বন্ধ রাখা যাবে না বলে জানিয়ে দেয়। তবে ওই কাজের জন্য অনুমতি দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার বলে দাবি করেছে বিজেপি। কিন্তু রাজ্যে সরকারের পরিবর্তন হতেই এই কাজ শুরু হয়।
বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে প্রায় দেড় বছর অনুমতি না মেলায় চিংড়িঘাটা মেট্রোর প্রকল্পের কাজ থমকে ছিল। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বে বিজেপি রাজ্যে সরকার গঠন করার ১৫ দিনের মধ্যেই এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
একই কথা জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার বছরের পর বছর ধরে সাধারণ যান চলাচল পথের পরিবর্তনের অনুমতি না দিয়ে কাজটি আটকে রেখেছিল। হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট প্রকল্পটি অনুমোদন করার পরেও, কাজ এগোয়নি। অবশেষে বাধার অবসান হয়েছে। পরপর দু’টি সপ্তাহান্তে রাতে যান চলাচল বন্ধ রাখার পরে ওই কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ব্যস্ত সংযোগকারী ওই রাস্তাটি নির্ধারিত সময়ের ৩ ঘণ্টা আগেই পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী।
জানা গিয়েছে, দু’দফায় শেষ হয়েছে এই কাজ। এর জন্য ১২০ ঘণ্টারও কম সময় লেগেছে।
প্রথম দফায়, গার্ডার বসানোর কাজ নির্ধারিত সময়ের ১০ ঘণ্টা আগেই শেষ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। গত শুক্রবার শুরু হয় দ্বিতীয় দফার কাজ। চিংড়িঘাটায় ভায়াডাক্ট-এর যে ৬২ মিটার শূন্যস্থান ছিল সেটাই এ বার ভরাট করা হয়েছে।
মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ঘিঞ্জি এলাকায় এই বকেয়া কাজটি শেষ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তাই রাতের দিকে কাজ করে সোমবার সকালের মধ্যেই তা সম্পূর্ণ করা হয়েছে।