মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে একের পর এক পথচারীকে ধাক্কা মারার অভিযোগ উঠল রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে। ভাইলার ভিডিয়োতে (সত্যতা যাচাই করেনি এই সময় অনলাইন) এমনই দাবি করা হয়েছে। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন এক পথচারী। সোমবার রাতে নিউটাউনের সিটি সেন্টার ২-এর কাছে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, প্রশান্তকে ইকো পার্ক থানার পুলিশ আটক করেছে। তবে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি পুলিশের কেউই।
পুলিশ সূত্রে খবর, সিটি সেন্টার ২-এর সামনে দিয়ে তীব্র গতিতে একটি গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন প্রশান্ত। অভিযোগ, আচমকাই এক পথচারীকে ধাক্কা মারেন তিনি। কিন্তু তার পরেও থামেননি। এঁকেবেঁকে গিয়ে আর এক বাইক আরোহীকেও ধাক্কা মারেন বলে অভিযোগ। তার পরে তীর বেগে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার আগেই আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তাঁরাই প্রশান্তর গাড়িটি আটকান। কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে চলে আসে পুলিশও।
ততক্ষণে পথচারীদের তোলা বেশ কিছু ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি এই সময় অনলাইন) ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রশান্ত চালকের আসনে বসে রয়েছেন। তাঁর দিকে আঙুল তুলে একজন ক্ষোভের সঙ্গে বলছেন, ‘রাজগঞ্জের সেই অপসারিত বিডিও, এখানে এসে ধাক্কা মেরেছেন।’ ফোনের ক্যামেরা প্রশান্তর মুখের সামনেও নিয়ে যান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে মাস্ক পরে নিতে দেখা যায় তাঁকে। ওই ব্যক্তিকে প্রশান্ত থামানোর চেষ্টাও করেন বলে অভিযোগ।
ভিডিয়োতে আহত পথচারীকেও দেখা গিয়েছে। তাঁর পায়ে চোট লেগেছে। প্রশান্তর গাড়ির সামনে ডেন্টের দাগও ভিডিয়োতে দেখানোর চেষ্টা করেন ওই ব্যক্তি। যদিও তাঁর সামনেই সরাসরি ধাক্কা মারার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রশান্ত। এর মধ্যেই ঘটনাস্থলে চলে আসে পুলিশ। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, প্রশান্তকে আটক করে ইকো পার্ক থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে থানার বাইরে ভিড় জমিয়েছেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। প্রশান্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন তাঁরা।
ইকো পার্ক থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে জখম পথচারীকেও। তাঁর পায়ে চোট লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘রাত ১০টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। আচমকাই একটি গাড়ি এসে ধাক্কা মারে।’ গাড়ির চালক ‘কিছু খেয়েছিলেন’ বলে অভিযোগ তাঁর।
উল্লেখ্য, নিউটাউনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ ও খুনের ঘটনায় প্রশান্ত বর্মনের নাম জড়িয়েছিল। গত বছরের ২৯ অক্টোবর যাত্রাগাছির খালপাড় থেকে স্বপনের দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ঘটনায় প্রশান্তর বর্মনের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছিল মৃতের পরিবার। এর পরেই রাজগঞ্জের বিডিও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন প্রশান্ত। তবে খুনের ঘটনায় তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু তার পর থেকে ‘নিখোঁজ’ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।