দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান কি এবার সত্যিই হতে চলেছে! আশায় বুক বাঁধছে নগরউখড়ার মানুষ
News18 বাংলা | ২৬ মে ২০২৬
দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান কি এবার সত্যিই হতে চলেছে! রাজ্যের ৬১টি রেল প্রকল্পের জমি জট কাটার পর ফের নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে বহু প্রতীক্ষিত গোবরডাঙা-কল্যাণী রেল প্রকল্প। নদিয়ার দক্ষিণাংশ ও উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের আশা, এবার হয়তো বাস্তবের মুখ দেখতে পারে সেই বহু প্রতিশ্রুত রেলপথ।
২০০৯ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নগরউখড়ার এক সভা থেকে যমুনা নদীর পাড় বরাবর নতুন রেলপথ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই সময় নামমাত্র শিলান্যাসও হয়েছিল। কিন্তু তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় ১৭ বছর। প্রকল্পটি আর এগোয়নি বাস্তবের পথে।
আরও পড়ুন: তৃণমূলের আমলের কোন প্রকল্প চলবে…? কোনটা বন্ধ হবে? সচিবদের কাছে রিপোর্ট চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী, বেঁধে দিলেন ‘সময়সীমা’!
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার প্রতিশ্রুতি মিললেও কাজের অগ্রগতি চোখে পড়েনি। তবে রাজ্যে পালা বদলের পর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে তাদের। বনগাঁ-পোড়ামহেশতলা নতুন রেল রুটের পরিকল্পনা সামনে আসতেই, ফের জোরালো হয়েছে গোবরডাঙা থেকে কল্যাণী পর্যন্ত রেল সংযোগের দাবি। সম্ভাব্য রুট হিসেবে ভাবা হচ্ছে বনগাঁ থেকে পোড়ামহেশতলা হয়ে জুড়তে পারে গোবরডাঙা, গাইঘাটা, নগরউখড়া, ফতেপুর, হরিণঘাটা, জাগুলি, কল্যাণী এইমস, বসন্তপুর, আনন্দনগর হয়ে কল্যাণী জংশন পর্যন্ত বিস্তৃত একটি রেলপথ।
আরও পড়ুন: আয়ুষ্মান কার্ডের জন্য Apply করছেন…? এই ‘একটি’ নথি না থাকলে আপনার আবেদন ক্যান্সেল হতে পারে, জানুন আবেদনের ‘সঠিক’ নিয়ম!
মাত্র ৩৭ কিলোমিটারের এই রেল রুট চালু হলে বদলে যেতে পারে দুই জেলার আর্থ-সামাজিক চিত্র বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিদিন হাজার হাজার অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। বিশেষ করে AIIMS-এ চিকিৎসার জন্য যাতায়াতকারী রোগী ও তাঁদের পরিবারগুলির জন্য এই রেলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এতদিন শুধুই শিলান্যাস ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মিলেছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। এবার তাঁরা প্রকল্পের কাজ শুরু দেখতে চান।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য আধার-মোবাইল ‘লিঙ্ক’ করতে লম্বা লাইন জেলায় জেলায়..! ঘরে বসে কী ভাবে ‘চেক’ করবেন নম্বরের স্ট্যাটাস?
তাঁদের কথায়, এটা শুধু রেললাইন নয়, গোটা অঞ্চলের উন্নয়নের চাবিকাঠি। ইতিমধ্যেই জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত প্রাথমিক অনুমোদনের খবর সামনে আসায়, আশায় বুক বাঁধছেন নগরউখড়া-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ। রাজ্যে বিভিন্ন রেল প্রকল্পে জমি জট কাটানোর যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার জেরেই গোবরডাঙা-কল্যাণী রেল প্রকল্পও এবার গতি পেতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। এখন দেখার, বহু বছরের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত কবে বাস্তবের রেলপথে গড়ায়।