সিবিআইয়ের হাতে ত্বিষা শর্মা মৃত্যু মামলার তদন্তভার তুলে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তার পরে ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি। সোমবার সন্ধ্যায় কাটরা হিলস থানার পুলিশের হাত থেকে মামলার নথিপত্র বুঝে নিলেন সিবিআইয়ের স্পেশাল ক্রাইম ইউনিটের তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে নতুন করে একটি এফআইআর-ও দায়ের করেছেন তাঁরা।
গত ১২ মে ভোপালের কাটরা হিলসের শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রাক্তন মিস পুনে ত্বিষা শর্মার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পরেই শ্বশুরবাড়ির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন মৃতার মা-বাবা। তাঁদের দাবি ছিল, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে তাঁদের মেয়ের উপরে অত্যাচার হতো। তার জেরেই খুন করা হয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে মৃতার শ্বশুরবাড়ি পাল্টা দাবি করে, ত্বিষা মাদকাসক্ত ছিলেন। তার জেরেই আত্মহত্যা করেছেন।
মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু হয় টানাপড়েন। ত্বিষার স্বামী সমর্থ সিং পেশায় আইনজীবী এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিং অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ। হাই-প্রোফাইল ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ওঠে। প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টে একাধিক অসঙ্গতি ছিল বলেও অভিযোগ। তার পরেই মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান মৃতার পরিবারের সদস্যরা। যদিও মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের নির্দেশে গত রবিবারই দিল্লি এইমসের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি টিম ভোপালে গিয়ে দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্ত করে ত্বিষার। এর পরে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
ত্বিষার রহস্যমৃত্যু নিয়ে ক্ষোভে ফুটতে শুরু করে আমজনতা। রাজ্য সরকারও এই মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার সুপারিশ করে। তার পরেই স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা গ্রহণ করে সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য মামলার ভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়াই শ্রেয়।
এর পরেই সন্ধ্যায় ভোপালে পৌঁছয় সিবিআইয়ের স্পেশাল ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ তদন্তকারী দল। ত্বিষার মৃত্যুর পরে এখানেই প্রথম অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। কাটরা হিলস থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা। জেনে নেন পুরো বিষয়টা। মামলা সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র নিজেদের হেফাজতে নেন। তার পরে কাটরা হিলস থানাতেই নতুন করে ত্বিষার স্বামী এবং শাশুড়ির বিরুদ্ধে এইআইআর দায়ের করেন বলে জানা গিয়েছে।