এই সময়: সোমবার শেষ রাতে মহানগরের ঘুমের ঘোর কেটেছিল চরম অস্বস্তিতে। কারণ, ওই সময়ে কলকাতার তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মে মাসের কলকাতায় রাতের তাপমাত্রা শেষবার এই পর্যায়ে উঠেছিল ৭৫৫ দিন আগে, ১ মে ২০২৪–এ। সে দিনও শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে বছর অবশ্য জুনেও রাতের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর পার করেছিল।
বাতাসে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি, আকাশে মেঘের হালকা আচ্ছাদন এবং ধীরগতির বায়ুর প্রবাহের মিলিত প্রভাবেই কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গের রাতের পরিস্থিতি এমন অসহনীয় জায়গায় পৌঁছেছে বলে জানাচ্ছেন আবহবিদরা। তাঁদের বক্তব্য, মে–র কলকাতায় উষ্ণতম দশটি রাতের মধ্যে সোমবারের রাত অষ্টম স্থানে রয়েছে।
রাজ্যের আবহাওয়ার পরিস্থিতি কেমন থাকবে, সে বিষয়ে আলিপুর হাওয়া অফিসের জানিয়েছে, দক্ষিণ বিহার ও সংলগ্ন এলাকার ওপর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এক কিলোমিটারেরও কম উচ্চতায় একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এ ছাড়া, উত্তর-দক্ষিণ অক্ষ বরাবর একটি নিম্নচাপ রেখা দক্ষিণ বিহার থেকে ঝাড়খণ্ড ও ওডিশা হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলের উত্তর দিক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকছে। এই কারণেই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে সামনের কয়েকদিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা খুব বেশি। দক্ষিণবঙ্গের কোনও কোনও জায়গাতেও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে খুবই বিক্ষিপ্ত ভাবে। একই সঙ্গে আবহবিদরা জানিয়েছেন, দক্ষিণবঙ্গের বিশেষ করে পশ্চিমের জেলাগুলোতে গরম ও অস্বস্তিকর আর্দ্র আবহাওয়াই থাকতে চলেছে সামনের কয়েক দিন।
তবে রাজ্যের উত্তরে ঝড়বৃষ্টির আবহ বজায় থাকতে চলেছে অন্তত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ, মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির (৭–১১ সেমি) সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলোতেও এ দিন বৃষ্টি হবে। আগামীকাল বুধবার জলপাইগুড়ি ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং বৃহস্পতিবার দার্জিলিং, মালদা এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ–সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।