• ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে শুরু যাচাই অভিযান, ‘অযোগ্য সুবিধাভোগী’-দের চিহ্নিত করতে নির্দেশিকা জারি রাজ্যের
    এই সময় | ২৬ মে ২০২৬
  • তৃণমূল সরকারের জমানায় ‘বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ)’ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। দাবি, বহু অযোগ্য ব্যক্তি অনৈতিক ভাবে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছিলেন। সেই নিয়ে এ বার কড়া পদক্ষেপ করল নতুন সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। সোমবার রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকের কাছে নির্দেশিকা পাঠিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সব নাম-পরিচয় আবার নতুন ভাবে যাচাই করে দেখতে হবে।

    নির্দেশিকায় স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, ‘বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ) চালুর পর থেকেই সাধারণ মানুষ, সংবাদমাধ্যম-সহ বিভিন্ন মহল থেকে লাগাতার অভিযোগ জমা পড়ছিল যে বহু অযোগ্য ব্যক্তিকে এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে তদন্তে সেই অভিযোগের সত্যতাও প্রমাণিত হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে বেআইনি ভাবে নেওয়া টাকাও।’ এই পরিস্থিতিতে যাতে কেউ অন্যায্য ভাবে প্রকল্পের সুবিধা নিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে চাইছে রাজ্য সরকার।

    নির্দেশিকায় জেলাশাসকদের ‘ফুল রি-ভেরিফিকেশন’ বা পুনরায় সব যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। আগামী ৩০ মে-র মধ্যে পুরো কাজ শেষ করতে হবে। যদি দেখা যায়, কেউ অনৈতিক ভাবে প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে নির্দেশিকায়। পাশাপাশি ২০২৬ সালের SIR-এর ASDD (সন্দেহজনক, ডুপ্লিকেট বা অসঙ্গতিপূর্ণ) তালিকাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

    কয়েক দিনের মধ্যে যাচাই বাছাইয়ের পুরো কাজ সম্পূর্ণ করতে বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন মডিউল তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। সেই অ্যাপ কী ভাবে কাজ করে, তা বুঝিয়ে দিতে অতিরিক্ত জেলাশাসক, ডিএনও এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকও করেছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। এ বার প্রশাসনিক কর্মী ও আধিকারিকরা যাচাইয়ের কাজ শুরু করবেন। প্রয়োজনে মহকুমা ও ব্লক স্তরেও বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

    উল্লেখ্য, ‘বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ)’ প্রকল্পে গৃহহীন, কাঁচা বা জরাজীর্ণ বাড়িতে যে সব পরিবার কোনও রকমে দিন কাটান, তাঁদের পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য তাঁদের মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেয় রাজ্য সরকার। প্রথম দফায় বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করার জন্য ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। আর দ্বিতীয় দফায় ছাদ ঢালাই বা পরবর্তী কাজের জন্য দেওয়া হয় আরও ৬০ হাজার টাকা।

  • Link to this news (এই সময়)