৬ মাস ১৪ দিনের 'আজব বাছুর' দেখতে ভিড় জমল বাঁকুড়ায়, কারণ জানলে চমকে উঠবেন
News18 বাংলা | ২৬ মে ২০২৬
কত রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়! কথাটা যেন একেবারে সত্যি বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলে। ৬ মাস ১৪ দিনের বাছুর দিচ্ছে দুধ। চোখ কপালে বাছুরের মালিক-সহ ডাক্তার-বদ্যিদের। জন্মের পর থেকেই বাছুরের বাট বড় হতে দেখে সন্দেহ করেন বাছুরটির মালিক। ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করলে তিনি বলেন, দুধ-দুইয়ে ফেলে দিতে। মালিক এবং চিকিৎসক জানিয়েছেন, বর্তমানে বাছুরটি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে।
বাঁকুড়ার খাতড়ার গোয়ালা অনাদি ঘোষের গোয়ালে প্রায় দশটি গরু। কিন্তু এহেন অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী তিনি হলেন এই প্রথম। বাছুরের দুধ দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন বাছুরটি দেখতে। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হল, বাছুরের দেওয়া দুধের স্বাদ ও গুণগত মান একেবারেই তার মায়ের দুধের মতো। পশু চিকিৎসক জানিয়েছেন, ” গরুটিকে প্রজনন করানোর সময় বা পরবর্তীতে সম্ভবত বেশ কিছু হরমোন দেওয়া হয়েছে। তার প্রভাবেই হয়তো এমনটি হয়েছে। যদিও এখন করনীয় তেমন কিছু নেই।” দুধ দুইয়ে ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডাক্তার। বাছুরটি সুস্থ আছে বলেই তিনি জানিয়েছেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এমন ঘটনা তারা আগে কখনও চোখে দেখেননি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমছে অনাদি ঘোষের বাড়িতে। অনেকেই ‘অদ্ভুত বাছুর’-এর ছবি ও ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন। কেউ বলছেন প্রকৃতির খেলা, আবার কেউ একে বিরল জৈবিক পরিবর্তনের ফল বলেই মনে করছেন।
আরও পড়ুন: ছৌ নাচের জেলায় এবার ভরতনাট্যমের জয়জয়কার, হাজার হাজার প্রতিযোগীকে হারিয়ে জাতীয় মঞ্চে বাজিমাত শ্রেয়ার! খুশিতে ডগমগ গোটা পুরুলিয়া
পশু বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল হলেও একেবারে অসম্ভব নয়। হরমোনের প্রভাব কিংবা শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের কারণেই অল্প বয়সি বাছুরের শরীরে দুগ্ধ উৎপাদনের মতো ঘটনা ঘটে। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে বাছুরটিকে। আপাতত বাছুরটি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকায় স্বস্তিতে রয়েছেন মালিক অনাদি ঘোষ ও তাঁর পরিবার।
আরও পড়ুন: মায়ের মৃত্যু হলেও মা-কে ছেড়ে যায়নি, সারা রাত মৃত মা-হাতির দেহ আঁকড়ে ধরে কাটাল হস্তি-শাবক
মুর্শিদাবাদ জেলায় বড়ঞা ব্লকে প্রায় একইরকম ঘটনা ঘটেছিল। মাত্র ২৯ দিন বয়সেই দুধ দেওয়া শুরু করেছিল একটি বাছুর। দুধের পরিমাণও নেহাত কম ছিল না। প্রতিদিন ৭৫০ মিলিলিটার করে দুধ দিয়েছিল ২৯ দিনের ওই বাছুর। অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী থাকতে ভিড় জমেছিল বড়ঞা ব্লকের শুকুরিয়া গ্রামে উত্তম মণ্ডলের বাড়িতে।