• এগিয়ে যাওয়া এক ভারতের সাক্ষী আমি: সিপি রাধাকৃষ্ণণ
    এই সময় | ২৬ মে ২০২৬
  • ছোটবেলায় তিরুপুরের স্কুলে পড়ার সময়ে দেশ নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন ছিল। ভাবতাম ভারত কবে তার গৌরব ফিরে পাবে? বিশ্বমঞ্চে শক্তিশালী জাতি হিসেবে উঠে আসবে কবে? আজ আমার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্বামী বিবেকানন্দের উক্তিটি আমার প্রায়ই মনে পড়ে—'ওঠো, জাগো, লক্ষ্যে পৌঁছনো পর্যন্ত থেমো না।'

    দেশ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও আমরা শক্তিশালী হচ্ছি। ভঙ্গুর একটি অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আমরা এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি। গত এক দশকে প্রায় ২৫ কোটি ভারতবাসী দারিদ্র থেকে বেরিয়ে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর গরিব কল্যাণ প্রকল্পের অধীনে প্রতি বছর ৮০ কোটি মানুষের কাছে বিনামূল্যে ৫ কেজি খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হচ্ছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় এখন ৪৪ কোটিরও বেশি মানুষ ৫ লক্ষ টাকার বিমা সুরক্ষার আওতায় এসেছেন।

    কৃষকেরা ভারতকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাদ্য উৎপাদক দেশে উন্নীত করেছেন। পিএম কিষাণ সম্মাননিধির আওতায় এ পর্যন্ত ৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। ৩ কোটিরও বেশি মহিলা লাখপতি দিদি এবং নমো দ্রোণ দিদি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা বা মহাকাশ প্রযুক্তি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই মহিলারা এগিয়ে এসেছেন।

    তরুণদের জন্য গত ১০ বছরে ১৩টি নতুন আইআইটি গড়ে তোলা হয়েছে। আইআইএম ১৩ থেকে বেড়ে ২১ হয়েছে। এইমস-এর সংখ্যা ৭ থেকে প্রায় বেড়ে হয়েছে ২৩। মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা ৩৮৭ থেকে বেড়ে ৮২৩ হয়েছে। ডাক্তারি পড়ার ক্ষেত্রে আসন সংখ্যা ৫১,৩৪৮ থেকে বেড়ে ১,২৯,৬০৩ হয়েছে।

    দেশের রেলপথের প্রায় ৯৯ শতাংশের বিদ্যুদয়ন হয়েছে। ৬৪টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সূচনা হয়েছে। বিমানবন্দরের সংখ্যাও ৭৪ থেকে বেড়ে ১৬৩ হয়েছে। তফসিলি জাতি ও উপজাতি ছাত্রছাত্রীরা প্রাক মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পরবর্তী বৃত্তি প্রকল্পে প্রভূত উপকৃত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিকে দেশের 'অষ্টলক্ষ্মী' বলে বর্ণনা করেন। সম্প্রতি, আমি নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, ত্রিপুরা এবং সিকিম সফর করি। সেই সময়ে ওই রাজ্যগুলির পরিবহণ ব্যবস্থার পাশাপাশি পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রেও ব্যাপক উন্নতি দেখেছি।

    কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে ভারত টিকা তৈরির উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছিল। চন্দ্রযান ৩-এর সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ভারত উন্নত মহাকাশ অনুসন্ধানের যুগে প্রবেশ করেছে। এআই-এর ক্ষেত্রে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ভারতকে তাদের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিচ্ছে, যার ফলে বিনিয়োগ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সন্ত্রাসবাদ দমনে শক্তিশালী নীতিসমূহকে কার্যকর করা এবং আইনের শাসন বলবৎ করায় দেশে এখন শান্তি বিরাজ করছে।

  • Link to this news (এই সময়)