• এপ্রিলে গুণমান যাচাইয়ে ফেল ৪২টি ওষুধ, উদ্বেগ
    এই সময় | ২৬ মে ২০২৬
  • এই সময়: বহুল ব্যবহৃত জ্বরের ওষুধ প্যারাসিটামল থেকে শুরু করে ডায়াবিটিসের ওষুধ মেটফর্মিন কিংবা গ্যাস–অম্বলের ওষুধ প্যান্টোপ্রাজ়োল, এমনকী প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ ঠেকানোর ওষুধ মিসোপ্রোস্টোল— দেশের বাজারে প্রচলিত ৪২টি ওষুধের ব্যাচ কেন্দ্রীয় গুণমান পরীক্ষায় ফেল করল। কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (সিডিএসসিও)-এর এপ্রিলের গুণমান পরীক্ষায় এই ব্যাচগুলিকে ‘নট অফ স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটি’ (এনএসকিউ) বা নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অধীন সিডিএসসিও নিয়মিত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাজারে বিক্রি হওয়া ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠায়। লক্ষ্য হলো, বাজারে থাকা ওষুধগুলি নির্ধারিত মান বজায় রাখছে কি না, তা ধারাবাহিক ভাবে যাচাই করা। এপ্রিলের রিপোর্টে ৪২টি ব্যাচকে মান পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্যারাসিটামল, প্যান্টোপ্রাজ়োল ও মেটফর্মিনের মতো বহুল ব্যবহৃত ওষুধ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক ও ক্রনিক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বেশ কিছু ওষুধ রয়েছে।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য— কোনও ওষুধ এনএসকিউ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেটি নকল বা সরাসরি ক্ষতিকর। এর অর্থ, ওই নির্দিষ্ট ব্যাচটি নির্ধারিত মানদণ্ডের কোনও এক বা একাধিক পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। যেমন, ওষুধের দ্রবীভবন (ডিজ়োলিউশন) পরীক্ষা, সক্রিয় উপাদানের পরিমাণ, বিশুদ্ধতা, স্থায়িত্ব বা লেবেল সংক্রান্ত তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়তে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনও ট্যাবলেট শরীরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যথাযথ ভাবে দ্রবীভূত না হলে প্রত্যাশিত ফল না–ও পাওয়া যেতে পারে।

    তবে প্রতি মাসেই বেশ কিছু ব্যাচের ওষুধ (যেমন, এপ্রিলে ৪২টি) গুণমান পরীক্ষায় ডাহা ফেল করার তাৎপর্য স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অপরিসীম। প্রতি মাসেই দেখা যাচ্ছে, ধারাবাহিক ভাবে বিভিন্ন ওষুধের ব্যাচ মান পরীক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে। মার্চেও কয়েক ডজন ওষুধের ব্যাচ এনএসকিউ তালিকায় উঠেছিল। তার আগের মাসগুলিতেও একই রকম রিপোর্ট হয়েছে। ফলে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং নজরদারির আওতায় বার বার উঠে আসা একটি প্রবণতা বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। এক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কথায়, ‘চিন্তার বিষয় হলো, বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা পরখ করার পরে রিপোর্ট যতদিনে প্রকাশিত হচ্ছে, ততদিনে ওই ফেল করা ব্যাচের ওষুধ বিক্রি হয়ে মানুষ ব্যবহারও করে ফেলছেন অজান্তেই।’

    প্রতি মাসে কিছু ওষুধ ফেল চিহ্নিত হওয়ার একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এমন রিপোর্ট প্রকাশের অর্থ—বাজারে বিক্রি হওয়া ওষুধগুলির উপরে নজরদারি ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চলছে। কোনও ব্যাচ পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে সাধারণত প্রস্তুতকারী সংস্থার কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া, সংশ্লিষ্ট ব্যাচ বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বা অতিরিক্ত তদন্তের মতো পদক্ষেপ করা হয়। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বহুল ব্যবহৃত ওষুধের ক্ষেত্রে এই ধরনের পুনরাবৃত্তি সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বিশেষত ক্রনিক রোগের চিকিৎসায় নিয়মিত ওষুধ সেবনকারীদের ক্ষেত্রে ওষুধের গুণমান নিয়ে আস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • Link to this news (এই সময়)