অর্পিতা হাজরা
কোনও তল্লাশি, গ্রেপ্তারি বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে এ বার থেকে আর ‘সাদা পোশাক’ (সিভিল ড্রেসে) পরতে পারবেন না কলকাতা পুলিশের কর্মীরা। এ সব বাধ্যতামূলক করা হলো ইউনিফর্ম পরা। বিভিন্ন কাজে পুলিশকর্মীরা সাদা পোশাকে গেলে তাঁরা আদৌ আসল পুলিশ কি না, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে সংশয় ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই সেই সমস্যা কাটিয়ে জনমানসে পুলিশের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখতে এই নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা সিপি অজয় নন্দ। তবে ছাড় রয়েছে গোয়েন্দা বিভাগ, এসটিএফ, এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ, সাইবার–সহ বিশেষ কিছু দপ্তরের ক্ষেত্রে।
পুলিশ সূত্রের খবর, ২০২৪–এ আরজি কর খুন–ধর্ষণ মামলায় সেমিনার রুমে ঘটনার পর দিন কলকাতা পুলিশের অনেক কর্মী ও অফিসার সিভিল ড্রেসে গিয়েছিলেন। তা নিয়ে পরে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রালকে সাংবাদিক বৈঠক করে ব্যাখা দিতে হয়। আবার সম্প্রতি পার্ক সার্কাসে একটি বিক্ষোভের ঘটনায় পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হলে পুলিশ পাল্টা লাঠিচার্জ করে। সেখানে সাদা পোশাকের অনেক পুলিশকর্মী ছিলেন। যাঁদের দেখিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, তাঁরা আদৌ পুলিশকর্মী তো? এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। এ ছাড়া শনি–রবিবার থানায় অনেক পুলিশকর্মী সাদা পোশাকে আসেন।
সিপি সম্প্রতি তাঁর নির্দেশে বলেছেন, নানা কারণে বিগত সরকারের সময়ে পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে জনমানসে প্রশ্ন উঠেছে। তাই জনগণের পুলিশের প্রতি আস্থা ফেরানো অত্যন্ত জরুরি। তাই এই সিদ্ধান্ত। খুব জরুরি অপারেশনে সাদা পোশাকে যাওয়া দরকার হলে আগে থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে বলে জানিয়েছেন সিপি। কোনও অভিযানের সময়ে আইডি কার্ড দেখানো বাধ্যতামূলক।
উল্লেখ্য, নতুন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা ২০২৩–এর ৩৬ ধারায় গ্রেপ্তারের সময়ে কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারকে আইনি প্রক্রিয়া মানার নির্দেশ রয়েছে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের ডিকে বসু বনাম রাজ্য সরকারের মামলার (১৯৯৭) উল্লেখ করা হয়েছে, কাউকে গ্রেপ্তারের সময়ে পুলিশের পরিচয় ধৃতের কাছে পরিষ্কার ভাবে তুলে ধরতে হবে।