এই সময়: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। কিন্তু বিজেপি ভোটের আগে থেকেই ‘প্রকৃত পরিবর্তন’–এর কথা বলছে। যার সার কথা, নিছক শাসকের পরিবর্তন নয়, পশ্চিমবঙ্গে সুশাসন কায়েম করে আর্থ–সামাজিক পরিস্থিতির বদল করা। তার জন্য ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই শিল্প ও বণিকমহলকে বিজেপি একটাই বার্তা দিতে চাইছে— নতুন পশ্চিমবঙ্গ ‘ইনভেস্টর ফ্রেন্ডলি’। সেই বার্তা আরও জোরালো করতে সোমবার কলকাতার ‘ভারত চেম্বার অফ কর্মাস’–এর মঞ্চ থেকে রাজ্যের বণিকমহলকে ‘একশো দিনের’ প্রতিশ্রুতি দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
এ বারের বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রচারের হাতিয়ারগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি। তৃণমূল জমানায় কতগুলি কোম্পানি বাংলা থেকে ব্যবসা গুটিয়ে ভিন রাজ্যে চলে গিয়েছে, সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে লাগাতার বিঁধেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়রা। এখন বিজেপি–ই শাসক শিবিরে। ফলে দেশ এবং পৃথিবীর বড় উদ্যোগপতিদের বাংলায় বিনিয়োগ করার আর্জি নিয়ম করে জানাচ্ছেন বঙ্গ–বিজেপি সভাপতি। তিনি বিলক্ষণ জানেন, শুধু আর্জি জানালেই চলবে না, শিল্পপতিদের বাংলায় বিনিয়োগ করার জন্য আকৃষ্টও করতে হবে। আর সেই লক্ষ্যেই এ দিন বণিকসভার অনুষ্ঠানে শমীক বলেন, ‘আজ এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি আপনাদের একটা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছি। আগামী ১০০ দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রে আমরা এমন কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ বা বড় ধামাকা করতে চলেছি, যা দেখার পরে আপনারা প্রত্যেকে আমাদের নতুন সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করতে বাধ্য হবেন।’
কিন্তু পদক্ষেপগুলি কী?
শমীকের ইঙ্গিত, আগামী একশো দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নতুন জমি নীতি এবং ডেটা নীতি নিয়ে আসবে। তাঁর কথায়, ‘গত সরকারের আমলে শিল্পক্ষেত্রে কার্যত কোনও কাজ হয়নি। নতুন সরকার সব কিছু নতুন করে করার ভাবনাচিন্তা করছে। আগামী একশো দিনের মধ্যে এর একটা রূপ দেখতে পাওয়া যাবে।’ তবে বাংলায় বিজেপি সরকারের জমি নীতি ঠিক কেমন হবে, তা এ দিন খোলসা করেননি শমীক। বাংলা থেকে তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেটরাজ দূর করার আশ্বাস শুরু থেকেই ব্যসায়ীদের দিচ্ছে বিজেপি। এ দিন ফের সেই প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘কারখানা অথবা অফিস থেকে কেউ টাকা চাইলে সেটা সরাসরি পুলিশ–প্রশাসনকে জানান। কড়া পদক্ষেপ করা হবে।’ এর জন্য প্রশাসন এবং সরকারি স্তরে আলাদা হেল্পলাইন নম্বর আনা হচ্ছে বলেও জানান শমীক।
এ দিন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে শমীক মনে করিয়ে দেন, ‘এই মাটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এবং ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পবিত্র ভূমি। এটাই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ-বান্ধব অঞ্চল হওয়ার যোগ্য ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিগত জমানার অপশাসনে বাংলার সেই বিপুল সম্ভাবনা কোনও দিন ডানা মেলতেই পারেনি। আমরা এ বার যা প্রয়োজনীয়, ঠিক তাই করব।’ তিনি এও বার্তা দেন, ‘খুব দ্রুত সময়োপযোগী ও কড়া আইন তৈরি করা হবে, যা এ রাজ্যের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের জন্য চূড়ান্ত লাভদায়ক এবং সুরক্ষামূলক হবে।’ তবে শমীকের সংযোজন, ‘এই কর্মযজ্ঞে সবাইকে সামিল হতে হবে। রাজ্যের বুদ্ধিজীবী ও আমজনতাকেও প্রকৃত পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো সওয়াল করতে হবে।’