এই সময়, মালদা এবং বহরমপুর: অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য মালদা এবং মুর্শিদাবাদে চালু হয়ে গেল হোল্ডিং সেন্টার। ইংরেজবাজারে তৃণমূল সরকারের আমলে তৈরি একটি পরিত্যক্ত কর্মতীর্থ ভবনকে হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে সেখানে ৯ জন বাংলাদেশিকে আটকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই সেন্টারটি যেখানে, সেই কাজিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের চন্দন পার্ক সংলগ্ন বাগবাড়ি এলাকায় দিনের বেলাতেই গা ছমছম করে ওঠে। চতুর্দিক ঘন জঙ্গলে ভরা। সেখানে চারতলার একটা পরিত্যক্ত বিল্ডিং। দূরদূরান্তে জনবসতি আছে ঠিকই, কিন্তু ওই হোল্ডিং সেন্টারের আশেপাশে কেউ থাকেন না। কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ার এবং আটক থাকা বাংলাদেশিরা ইতিমধ্যেই ভূতের আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, 'এত ঘন জঙ্গলের মধ্যে বিষধর সাপ রয়েছে। এমনকী, সারাদিন চারিদিক থেকে নানা ধরনের আওয়াজ আসছে। গা ছমছম করার মতো পরিবেশ।'
পুলিশ ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত যে ৯ জনকে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে তাদের মধ্যে ৩ জন মহিলা এবং ৬ জন নাবালক ও নাবালিকা। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইংরেজবাজারের ওই হোল্ডিং সেন্টারে সিসিটিভি বসানোর পাশাপাশি ১২ জন পুলিশ, ৩ জন সিভিল ডিফেন্স কর্মী, ৩ জন সিভিক ভলান্টিয়ার এবং রান্নার জন্য দু'জন রাঁধুনি নিয়োগ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, 'অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা একবার এ ধরনের হোল্ডিং সেন্টারে ঢুকলে হাড়ে হাড়ে টের পাবে। দশবার ভাবতে হবে, কেন বেআইনিভাবে ঢুকতে গেলাম?' রবিবার রাতে গাজোল থানার পুলিশ পান্ডুয়া এলাকা থেকে ৯ জন বাংলাদেশিকে আটক করার পরে সকলকে ওই হোল্ডিং সেন্টারে আপাতত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বার থেকে অনুপ্রবেশকারীদের ধরা হলে পুশব্যাক করার আগে এই হোল্ডিং সেন্টারেই রাখা হবে।
ইংরেজবাজারের চন্দনপার্ক সংলগ্ন এলাকায় রাজ্য সরকারের একটি কর্মতীর্থ ভবন দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়েছিল। সেটাই আপাতত ব্যবহার করা হবে। এখানে একসঙ্গে প্রায় ৫০০ জন বাংলাদেশিকে রাখা যাবে।
চন্দন পার্ক সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে এই এলাকায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের মার্কেটিং-এর জন্য কর্মতীর্থ ভবন গড়ে তোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেটি আর ব্যবহার না করার ফলে দুষ্কৃতীদের আখড়ায় পরিণত হয়। অনেকে ভূতের ভয়ে দিনের বেলাতেও ওই বিল্ডিংয়ে যেতে চাইতেন না। পুলিশের দাবি, ধৃত বাংলাদেশিদের কাছে ভারতীয় কোনও নথি পাওয়া যায়নি। গাজোল থানার পান্ডুয়া এলাকায় ঝুপড়ি ঘর করে আস্তানা বানিয়ে থাকছিলেন অভিযুক্তরা। রবিবার রাতে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ সকলকে আটক করে। ইতিমধ্যে বিএসএফের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশিদের দ্রুত পুশব্যাক করার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, 'তৃণমূলের আমলে এইসব কর্মতীর্থ, পথসাথী ভবনগুলো দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে গড়ে উঠেছিল। সাধারণ মানুষের কোনও উপকারে লাগত না। নানা বেআইনি কাজকর্ম হতো।'
তৃণমূলের সহ-সভাপতি তথা ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, 'নাগরিকত্ব দেওয়া এবং অবৈধ বাংলাদেশি চিহ্নিত করার কাজ কেন্দ্রের। প্রকৃত ভারতীয়দের যাতে হয়রানি না করা হয়, সেই দাবিও আমরা করছি।'
এদিকে, সরকারি নির্দেশিকা পেয়ে রাতারাতি মুর্শিদাবাদের সীমান্ত এলাকা লালগোলাতেও চালু হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার। সেখানে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তিন জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, লালগোলা থানার বাহাদুরপুর পঞ্চায়েত কার্যালয় লাগোয়া 'পদ্মা ভবন'-এর তিন তলায় ওই হোল্ডিং সেন্টার আপাতত গড়ে তোলা হয়েছে। ভবনের তিন তলার অংশটুকু শনিবারের পর থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে। লালবাগের মহকুমাশাসক পূজা মিনা বলেন, 'লালগোলায় পদ্মা ভবনে হোল্ডিং সেন্টার করা হয়েছে। এখন সেখানে তিন জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে রাখা হয়েছে।' স্থানীয় পুলিশ সূত্রে খবর, ওই তিন বাংলাদেশি সীমান্ত পেরিয়ে লালগোলায় এসে বাস করছিলেন। তাঁদের কাছে কোনও বৈধ কাগজপত্র ছিল না। রবিবার তাঁদের গ্রেপ্তার করে সেন্টারে রাখা হয়েছে। সেখানে সর্বক্ষণের পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বাইরে থেকে খাবার কিনে খাওয়ানো হচ্ছে বাংলাদেশিদের।