• যাদবপুরের ক্যাম্পাসে কুকুরদের চিহ্নিত করতে বিশেষ কলারের ব্যবস্থা
    এই সময় | ২৬ মে ২০২৬
  • এই সময়: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের কুকুরদের এ বার বিশেষ কলার পরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এই কলারগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম লেখা থাকবে, যাতে বাইরের রাস্তার কুকুরদের থেকে ক্যাম্পাসের আবাসিক কুকুরকে সহজেই আলাদা করা যায়। এছাড়া, কুকুরদের থাকার এবং খাওয়ানোর সুবিধার্থে ক্যাম্পাসের ভেতরেই অন্তত দু-তিনটি শেল্টার হোম তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মূলত মানুষ ও প্রাণীদের অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সহাবস্থানের পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। জানা গিয়েছে, বর্তমানে যাদবপুর ক্যাম্পাসে প্রায় ৬০টি কুকুর রয়েছে।

    গত দু’সপ্তাহে বাইরের বেশ কিছু কুকুর ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ুয়া ও আবাসিকদের কামড়ে দেওয়ায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। অনেকেই নিরাপত্তার অভাব বোধ করতে শুরু করেন। এই সমস্যা সমাধানেই কমিটি প্রস্তাব দেয়, ক্যাম্পাসের কুকুরদের গলায় ‘জেইউ’ লেখা কলার পরানো হবে। পাশাপাশি গেটগুলোতে জাল বা ফেন্সিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে ভেতরের কুকুর বাইরে যেতে না পারে এবং বাইরের কুকুর ভেতরে ঢুকতে না পারে।

    এর আগে কমিটির একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ক্যান্টিন, হস্টেল বা গেটের আশেপাশে কুকুর বা বিড়ালকে খাবার দেওয়া যাবে না। কিন্তু এর তীব্র প্রতিবাদ জানান প্রায় ৫৮০ জন শিক্ষক ও পড়ুয়া। তাঁদের দাবি ছিল, নির্দিষ্ট কোনও জায়গা না দেখিয়ে এমন নিষেধাজ্ঞার অর্থ কুকুরগুলোকে অনাহারে মারা। পড়ুয়ারা জানান, বর্তমানে সুবর্ণ জয়ন্তী, ওপেন এয়ার থিয়েটার, গ্রিন জোন, অরবিন্দ ভবনের পেছনে এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মতো কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় কুকুরদের খেতে দেওয়া হয়।

    শিক্ষকরা জানিয়েছেন, আপাতত ঠিক হয়েছে শেল্টার হোমগুলি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আগের মতোই কুকুরদের খাওয়ানো যাবে। তবে ক্যান্টিন বা হস্টেলের মতো ভিড় এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ফার্মেসি বিভাগের কাছের ভগ্নপ্রায় পুরনো শেল্টারটি সংস্কার করে সেখানে কয়েকটি কুকুরকে রাখা হবে। তারা কীভাবে মানিয়ে নিচ্ছে তা পর্যবেক্ষণের পরে সফল হলে ঝিল এবং এক নম্বর গেটের কাছে আরও দুটি হোম তৈরি করা হবে। এছাড়া এনজিওর সাহায্যে কুকুরদের টিকাকরণ ও নির্বীজন করার জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাবও কর্তৃপক্ষের কাছে রাখা হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)