• আফ্রিকানদের হারিয়ে সোনা মিতুর, দিনাজপুরের প্রত্যন্ত গ্রামকে গর্বিত করলেন মহিলা সেনাকর্মী
    এই সময় | ২৬ মে ২০২৬
  • নীলাঞ্জন দাস, রায়গঞ্জ

    প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে। অনেক লড়াই করে তিনি পৌঁছে গিয়েছেন সেনাবাহিনীতে। এ নিয়েই গর্বের শেষ ছিল না রায়গঞ্জের এক প্রত্যন্ত গ্রামের। তার উপরে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সোনা জয় সেই গর্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। আফ্রিকায় গিয়ে সেখানকার মেয়েদের টেক্কা দিয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন সেনাকর্মী মিতু দাস।

    রায়গঞ্জের মাড়াইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের টেনহরি গ্রামে বাস দাস পরিবারের। সঞ্জীবন দাস কৃষিকাজ করেন। সঞ্জীবন ও তাঁর স্ত্রী যমুনা দাসের তিন ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে সুমন পেশায় শ্রমিক। মেজো ছেলে সুজন হোটেল কর্মী। ছোট ছেলে সঞ্চয়ের চায়ের দোকান। এই পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছেন মিতু। তিনি ভারতীয় সেনায় কনস্টেবল পদে কর্মরত। পাঁচ বছর আগে ভারতীয় সেনায় যোগ দেন। এখন ভারতীয় সেনার অসম রাইফেলসে কনস্টেবল পদে রয়েছেন।

    মিতু ছেলেবেলা থেকেই খেলাধুলোয় খুব আগ্রহী। স্থানীয় নুড়িপুর ডাঙ্গি মাঠে নিয়মিত দৌড়তেন। দৌড় প্রতিযোগিতায় ছেলেদেরও টেক্কা দিতেন তিনি। পড়াশোনাও চালিয়ে গিয়েছেন সমান তালে। রায়গঞ্জের প্রমোদাসুন্দরী উচ্চবিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংস্কৃতে অনার্স নিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান। ২০২১-এ লিখিত ও শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভারতীয় সেনায় যোগ দেন।

    গত ১ মে আফ্রিকার দক্ষিণ সুদানে ইউনিসফা (ইউনাইটেড নেশনস ইন্টেরিম সিকিউরিটি ফোর্স ফর আবিয়ে)-এর অধীনে মহিলা সেনাদের নিয়ে ১২ কিমি ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারত, চিন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, ঘানা ও উগান্ডা- এই সাতটি দেশের মহিলা সেনাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। দেশের হয়ে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক জয় করেন মিতু। সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে এক টুকরো ভূখণ্ড আবিয়ে। দুই দেশের মধ্যবর্তী এই ভূখণ্ডে রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সেখানে গিয়ে আফ্রিকান মহিলাদেরও দৌড়ে টেক্কা দিয়েছেন মিতু।

    বাড়ির মেয়ের এই সাফল্যে পরিবার-সহ প্রতিবেশীদের মধ্যে খুশির আবহ। সঞ্জীবন বলেন, 'আমি একজন সামন্য কৃষক। আমার গর্ব যে আমার মেয়ে দেশের একজন সেনা। তার উপরে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের হয়ে অংশগ্রহণ করে সোনা জিতেছে, এটা তো খুবই গর্বের বিষয়।' সঞ্চয় বলেন, 'আমরা তিন ভাই কেউ চাকরি পাইনি। কোনও রকমে সংসার চালাই। তবে দিদিই আমাদের গর্ব। ওর এই সাফল্যে আমরা খুবই খুশি। আমরা চাই ও যেন আরও এগিয়ে যায়।' সেনাকর্মী মিতু কবে বাড়ি ফিরবেন, সেই অপেক্ষায় রয়েছে দাস পরিবার। সঞ্চয়ের কথায়, 'সব সময় তো ওর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। ও যখন ফ্রি থাকে তখনই কথা হয়। তা ছাড়া বাকি সময় ওর ফোন বন্ধ থাকে। ও বাড়ি ফিরুক, তখন আমরা সোনা জয়টাকে সেলিব্রেট করব।'

  • Link to this news (এই সময়)