এই সময়, মালদা: প্রেমঘটিত বিবাদ নিয়ে এক যুবককে গণপিটুনি দেয় তাঁরই একদল বন্ধু। এর পর ওই যুবকের মুখ বন্ধ করতে তাঁর উলঙ্গ ছবি মোবাইলে বন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগ, প্রায় দু’মাস ধরে ব্ল্যাকমেলিংয়ের শিকার হয়ে পরিবারকে সমস্ত ঘটনার কথা জানিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হলেন ওই যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে ইংরেজবাজার পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুলদীপ মিশ্র কলোনি এলাকায়। মৃতের নাম দেবাশিস ঘোষ (২২)। সোমবার মৃতের বাবা ছেলের চার বন্ধুর বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেলিং, আত্মহত্যার প্ররোচনা এবং শারীরিক নিগ্রহের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ইংরেজবাজার থানায়।
উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর দেবাশিস ইংরেজবাজার শহরের বাঁশবাড়ি এলাকার একটি সংস্থায় বিভিন্ন ধরনের হোডিং, ব্যানার, পোস্টার তৈরির কাজ করতেন। তাঁর বাবা চন্দন ঘোষ পেশায় হকার। এদিন সকালে ওই যুবক তাঁর মায়ের শাড়ি গলায় বেঁধে একটি পরিত্যক্ত দোকানে ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন। পুলিশকে অভিযোগে মৃতের বাবা চন্দন বলেছেন, ‘মার্চ মাসের দোলের পরে প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে দেবাশিসকে তাঁর চার বন্ধু প্রচণ্ড মারধর করে। ওই মারধরের কথা যাতে ও কাউকে না বলে তার জন্য উলঙ্গ করে একটি ভিডিয়ো মোবাইলে রেকর্ডিং করে অভিযুক্তরা। ছেলে বাড়িতে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা করলেও এই মারধরের কথা কাউকে বলেনি। কিন্তু তারপর থেকেই ওকে নাকি ব্ল্যাকমেলিং করছিল ওই চার বন্ধু। তাতে দেবাশিস মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে। পরে ও তাঁর মাকে সমস্ত ঘটনার কথা বলে।’
চন্দন জানান, বিষয়টি নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মীমাংসা বৈঠক হয়েছিল। তাতে বন্ধুদের ওই ভিডিয়ো ডিলিট করে দেওয়ার কথা বললেও তা শোনেনি অভিযুক্তরা। তাতে আরও ভেঙে পড়ে দেবাশিস। তারপরেই এই ঘটনা। ইংরেজবাজার থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেখানে কয়েকজনের সঙ্গে চ্যাটিংয়ের কিছু বার্তা জানতে পারা গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।