এই সময়, শিলিগুড়ি: রাজ্যে পালাবদলের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, এখন থেকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) আইনেই পুলিশকে সমস্ত মামলা রুজু করতে হবে। কোনও মামলায় সাত বছরের বেশি সাজার বিষয় থাকলে তদন্তে ফরেন্সিক ল্যাবের সহযোগিতা নেওয়া বাধ্যতামূলক রয়েছে এই আইনে। ফলে বিগত সরকারের আমলে অনেক ক্ষেত্রে বিএনএস আইনে মামলা রুজু করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল পুলিশকে। এই সমস্যার কথা মাথায় রেখে এবারে রাজ্যজুড়ে ফরেন্সিক পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ।
বর্তমানে কলকাতায় পূর্ণাঙ্গ ফরেন্সিক ল্যাব থাকলেও দুর্গাপুর, মালদা, জলপাইগুড়িতে ফরেন্সিক ইউনিট বা রিজিওনাল সেন্টার রয়েছে। এবারে এইসব জায়গায় রিজিওনাল ল্যাবগুলোকে উন্নত করার চেষ্টা শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি খড়গপুর, সিঙ্গুর, ব্যারাকপুর, কল্যাণী ও মুর্শিদাবাদে নতুন পাঁচটি রিজিওনাল ফরেন্সিক সেন্টার তৈরি করা হবে। এতদিন জলপাইগুড়ির সেন্টারে টক্সিলজি, বায়োলজির মতো পরিকাঠামো থাকলেও ফরেন্সিক টেস্টের ব্যবস্থা ছিল না। খুব শীঘ্রই জলপাইগুড়ির সেন্টারে নারকোটিক, ফিজিক্স, ব্যালস্টিক, ডিএনএ টেস্টের মতো পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত সেন্টারগুলোর জন্য জায়গা ও পরিকাঠামো দেখতে শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ।
অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ঘটনার তদন্তে দ্রুত ফরেন্সিক সাহায্যের দরকার পড়ে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে কয়েক মাস আগে রাজ্য পুলিশের তরফে প্রতিটি জেলা পুলিশ ও কমিশনারেটে একটি করে মোবাইল ফরেন্সিক ভ্যান দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক্ষেত্রে বড় জেলাগুলিতে সমস্যা মেটেনি। সেই কারণে দিন কয়েক আগে রাজ্য পুলিশের তরফে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নতুন ২৫টি মোবাইল ফরেন্সিক ভ্যান চাওয়া হয়েছে। কয়েক মাস আগে কেন্দ্রীয় সরকার ফরেন্সিক পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য রাজ্য পুলিশকে ৮ কোটি টাকা সাহায্য করেছিল। এবারে আরও সাহায্যের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন পাঠিয়েছে রাজ্য পুলিশ। এ নিয়ে রাজ্য পুলিশের এডিজি তথা ফরেন্সিক বিভাগীয় প্রধান কালিয়াপ্পন জয়রামন বলেন, ‘ফরেন্সিক প্রক্রিয়াকে আধুনিকরণ করার চেষ্টা শুরু করেছি আমরা। সেই জন্য নিত্য নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কোনও ঘটনার তদন্তে দ্রুত তথ্য খুঁজে পেতে মোবাইল ভ্যান ব্যবহারের উপর জোর দিচ্ছি আমরা।’ আগামীতে অন্য জায়গাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলা হতে পারে বলে জানান এডিজি।