এই সময়, রায়গঞ্জ: ১৮ বছর আগে এইমস গড়তে জমি দিতে এগিয়ে এসেছিলেন রায়গঞ্জের শীতগ্রাম পঞ্চায়েতের পানিশালা এলাকার কৃষকরা। রাজনীতির ঘূর্ণীপাকে পড়ে সেই এইমস আর হয়নি। রাজ্যে পালাবদলের পরেই ফের উত্তরবঙ্গে এইমস তৈরির সলতে পাকানোর কাজ শুরু হয়েছে। এইমসের জন্য এখনও জমি দিতে প্রস্তুত পানিশালা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উত্তরবঙ্গে এইমস তৈরির প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠানোর কথা ঘোষণা করেছেন। আর এই ঘোষণা হতেই আশায় বুক বাঁধছেন সেখানকার কৃষকরা। সেবারের মতো এবারেও তাঁরা স্বেচ্ছায় জমি দিতে তৈরি।
২০০৮–এ তৎকালীন ইউপিএ সরকার উত্তর দিনাজপুর জেলার সদর রায়গঞ্জে এইমস গড়ার কথা ঘোষণা করে। মূলত সেই সময়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির উদ্যোগেই এই হাসপাতাল রায়গঞ্জে তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনার অন্তর্গত ৯৬০ বেডের এই হাসপাতেলের জন্য ৮২৩ কোটি টাকা বরাদ্দও করা হয়। রাজ্য সরকারকে ১০০ একর জমির ব্যবস্থা করতে বলা হয়। প্রাথমিক ভাবে জেলা প্রশাসনের একটি টিম সার্ভে করে রায়গঞ্জ শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে শীতগ্রাম পঞ্চায়েতের পানিশালা এলাকায় জাতীয় সড়কের পাশে একটি জমি চিহ্নিত করে। কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি টিম এসে ওই জায়গা পরিদর্শন করে সবুজ সংকেত দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও জমি দিতে রাজি হন।
এরপরই জমি অধিগ্রহণ নিয়ে তৎকালীন বাম সরকারের সঙ্গে টানাপোড়েন শুরু হয় কেন্দ্রের। ফলে একটি ইটও গাঁথা সম্ভব হয়নি। ২০১১–তে রাজ্যে পালাবদলের তৃণমূল সরকারের আমলেও জমি অধিগ্রহণ নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত থাকে। পানিশালা এলাকার প্রায় ৯০ জন জমির মালিক স্বেচ্ছায় জমি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। এমনকী, তাঁরা জমির দলিল নিয়ে রায়গঞ্জের সেই সময়ের কংগ্রেস সাংসদ দীপা দাসমুন্সীর নেতৃত্বে মহাকরণ অভিযানেও সামিল হন। কিন্তু রাজ্য সরকার হাতগুটিয়ে থাকে বলে অভিযোগ। পরে রায়গঞ্জের পরিবর্তে রাজ্য সরকার কল্যাণীতে জমি দিলে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এইমস সেখানে স্থানান্তর করা হয়। তবে গত লোকসভা নির্বাচনে রায়গঞ্জে প্রচারে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উত্তরবঙ্গে আর একটি এইমস তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও একই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেই শুভেন্দু অধিকারী উত্তরবঙ্গে এইমস তৈরির বিষয়টি ফের সামনে আনেন। এরপরেই পানিশালা এলাকার মানুষ আবার নতুন করে আশার আলো দেখতে পেয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা পেশায় কৃষক মংলু মহম্মদ, তাসিম মহম্মদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা আশায় ছিলাম যে, এই জমিতে এইমস করা হবে। রাজনীতির কারণে তা কল্যাণীতে চলে গিয়েছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উত্তরবঙ্গে এইমস তৈরির কথা জানিয়েছেন। আমরা চাই এই জায়গাতেই এইমস করা হোক। আমরা জমি দিতে প্রস্তুত।’ বারসেদ আলি, আবু সালেক সরকার নামে স্থানীয় দুই কৃষক বলেন, ‘প্রিয়দা আমাদের এইমসের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। রাজনীতির কারণে সেই স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছিল। এখন মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গে এইমস তৈরির ঘোষণায় আমরা ফের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। আমরা আর যেন ধাক্কা না খাই।’