• উপভোক্তার তালিকা যাচাইয়ে নয়া তথ্য, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এ প্রাপক স্বামী
    এই সময় | ২৬ মে ২০২৬
  • বাবলু সাঁতরা, চন্দ্রকোণা

    পয়লা জুন থেকে রাজ্যে চালু হতে চলেছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। ভোটের আগে তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’–এর পাল্টা হিসাবে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’কে সামনে এনে প্রচারে নেমেছিল বিজেপি। বিধানসভা ভোটে বিজেপি জেতার পরে মহিলাদের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে উৎসাহ তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীও শীঘ্র এই প্রকল্প চালু করতে উদ্যোগী হয়েছেন।

    সরকারের তরফে বলা হয়েছে, এখন যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছেন তাঁদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না। তবে বর্তমান প্রাপকদের তালিকা যাচাই করে নেওয়া হবে। প্রাপকদের সেই তালিকা যাচাইয়েই চন্দ্রকোণার মনোহরপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের মনোহরপুরে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা গিয়েছে, লক্ষ্মীর ভান্ডার–এর উপভোক্তার তালিকায় নাম রয়েছে গ্রামের তৃণমুল নেতা ঠিকাকর্মী উত্তম কুমার সাউ-এর। সোমবার সেই তালিকা প্রকাশ্যে এনেছেন স্থানীয় বিজেপির নেতা–কর্মীরা। যা নিয়ে শোরগোল পড়েছে।

    মহিলাদের জন্য প্রকল্পে তৃণমূল নেতার নাম এল কী করে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব বিজেপি। দলের চন্দ্রকোণা ৫ নম্বর মণ্ডল সভাপতি সবুজ মজুমদার বলেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর জন্য লক্ষ্মীর ভান্ডারের তালিকা যাচাই করা হয়েছে মনোহরপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে। প্রধান যে তালিকা দিয়েছেন সেখানে উত্তম কুমার সাউ নামে একজন তৃণমূল নেতার নাম রয়েছে। একজন পুরুষের নাম লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে থাকবে কেন? অবিলম্বে নেতার নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। যারা এ জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে প্রধানকে। এ ভাবেই তৃণমূলের একের পর এক দুর্নীতি সামনে আসবে।’

    জানা গিয়েছে, তালিকায় বাকি তথ্য যেমন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল নম্বর সব কিছুই উত্তমের স্ত্রী মুনমুন সামন্ত সাউ-এর। তালিকায় স্বামীর নাম থাকলেও লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছিলেন মুনমুন। উত্তমের দাবি, ২০২১–এ দুয়ারে সরকারে স্ত্রী মুনমুন লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে আবেদন করেছিলেন। তখন থেকেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ঢুকছে। যদিও ঘটনা সামনে আসতেই তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ দিতে পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন উত্তম। চন্দ্রকোণা-১ বিডিও অফিসে গিয়ে নিজের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। উত্তম বলেন, ‘আমি বা আমার স্ত্রী কখনও তালিকা খতিয়ে দেখিনি। স্ত্রী লক্ষ্মীর ভান্ডার পাওয়ার যোগ্য। সেইমত আবেদন করেছিল। কিন্তু তালিকায় আমার নাম কী করে এল বলতে পারব না। উপভোক্তার জায়গায় আমার নাম থাকলেও বাকি সব তথ্য স্ত্রীর। যারা সেই সময় দায়িত্বে ছিল তারাই বলতে পারবে। যদি আমাদের কোনও ভুল থাকে তাহলে আইনি ভাবে যা করার ওরা করতে পারে।’

    চন্রকোণা-১ এর বিডিও কৃষ্ণেন্দু বিশ্বাস বলেন, ‘এ কাজের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে এমনটা হয়ে থাকতে পারে। আমরা দেখছি।’ পঞ্চায়েত প্রধান মাধুরী সিংহ দোলই বলেন, ‘২০২১–এ এটা এন্ট্রি হয়েছে। তখন অনেক উপভোক্তার চাপ ছিল। টেকনিক্যাল ভুলের কারণেও এমনটা হয়ে থাকতে পারে। বিজেপির তরফেও আমাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)